বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্যারিশম্যাটিক নেতা : বিদ্যা দেবী

নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু একজন ক্যারিশম্যাটিক, সাহসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতা ও দক্ষ সংগঠক ছিলেন। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসবে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ভিশন অনুযায়ী দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম সফর হলেও এর আগে ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা সফর করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানের অনেক উন্নতি হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করা একটি বড় জনগোষ্ঠীকে গত কয়েক বছরে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত আছে।’

এর আগে গতকাল সকালে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নেপালের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় এসে পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশ^নেতাদের মধ্যে তিনি তৃতীয়। সফরে বিদ্যা দেবীর সঙ্গে আছেন তার মেয়ে ঊষা কিরণ ভা-ারি, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়ালি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিব ও সিনিয়র কর্মকর্তারা।

নেপালের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেশি নয়। ভৌগোলিক নিকটবর্তিতা, একই ধরনের সংস্কৃতি, প্রথাসহ অন্যান্য বিষয় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এটি সব সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফর এই সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নেপাল সফর করেন এবং আজকে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি।’

বাণিজ্য, কানেকটিভিটি, ট্রানজিট, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চলমান রয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে হবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি এবং এটি কমানোর ওপর জোর দিয়ে বিদ্যা দেবী বলেন, ‘বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজার সুবিধা সম্প্রসারিত হলে বাণিজ্য সম্পর্ক অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। নেপালের জলবিদ্যুৎ ও বাংলাদেশের গ্যাস দুই দেশের উন্নয়নে একটি গেমচেঞ্জার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা জরুরি।

কানেকটিভিটি দুই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে বিদ্যা দেবী ভা-ারি বলেন, ‘ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইট আরও বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সৈয়দপুর ও নেপালের বিরাটনগরের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নেপালের নদীর সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের নদীর সংযোগ ঘটানো সম্ভব হলে নদীপথে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে কানেকটিভিটি উন্নত করা সম্ভব হবে এবং বাণিজ্য ও পরিবহন খরচ কমানো যাবে। রেলপথ ও সড়কপথ উন্নয়নের মাধ্যমে কানেকটিভিটি আরও অর্থবহ করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, নেপালে রেলওয়ে ট্রানজিটের জন্য রোহানপুরকে পোর্ট অব কল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ভান্ডারির

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেপালের প্রেসিডেন্ট সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গতকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সাভারের জাতীয় সৃতিসৌধে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখান থেকে বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভান্ডারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর এবং সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ শেষে নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।