দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রায় ১৬ কি.মি. দীর্ঘ সোনাবন্দ-খড়খরিয়া নদীর সংযোগ খালের খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে খাল পার্শ্ববর্তী ১৬ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত শত শত বোরো চাষি ও ভূমি মালিক।
খালের প্রবাহ এলাকার সঠিক ম্যাপ অনুসরণ না করে ব্যক্তিগত জমি ওপর খাল খনন ও খননকালে তোলা মাটি বোরো জমিতে ফেলায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী খনন কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন বলে তারা জানান।
সোমবার সকালে পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন খনন কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটর মেশিন ঘেরাও করে খনন কাজ বন্ধ করে দেয়।
ফলে হরিরামপুরের খড়খড়িয়া নদীর মুখ থেকে বান্নিরঘাট পার্বতীপুর-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তায় যানবাহনও পথচারী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত ২৩ দিন ধরে এ রাস্তায় মানুষ ও যানবাহন রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ ১৬ গ্রামের মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে আজ সোমবার সকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের খনন কাজ বন্ধ করে দেয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি, রামপুর ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সোনাবন্দ-খড়খরিয়া নদী সংযোগ খাল খননে দায়িত্ব পেয়েছে নীলফামারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কর্মকার এজেন্সি। এতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে এ সংযোগ খালের খনন কাজ শুরু করা হয়। শুরুতেই খনন কাজে ব্যবহৃত ৫টি এস্কেভেটর মেশিনে তোলা বিপুল পরিমাণ মাটি অপরিকল্পিত ভাবে খাল পার্শ্ববর্তী বোরো ধান ক্ষেত ও এলাকাবাসীর ব্যবহৃত একমাত্র সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলে রামপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আজাহার আলী বলেন, তার ২৪ শতক জমির মধ্যে ১৮ শতকের ওপর দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে।
বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের শেখপাড়ার আব্দুর জব্বার, সরকারপাড়ার সাইফুল ইসলাম ও ইব্রাহিমপাড়ার মিঠুন বলেন, খালের পাশের ব্যক্তিগত জমিতে রোপণ করা বোরো ধান ক্ষেতে মাটি ফেলায় প্রায় প্রত্যেকের কমবেশি ৫ থেকে ১০ শতক জমির বোরো ক্ষেত মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পুনরায় খনন কাজ শুরুর আগে জমির নকশা অনুযায়ী খালের প্রকৃত সীমানা বের করতে হবে। যাতে কোন ভূমি মালিক যেন ক্ষতির শিকার না হন।
ক্ষতিগ্রস্ত বেলাইচন্ডি ইউনয়নের ৪ ওয়ার্ড মেম্বার জিয়াউর রহমান বলেন, খেয়াল খুশিমতো মাটি ফেলায় তার পরিবারের প্রায় ১ বিঘা জমির বোরো ধান ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে আবারও খনন কাজ চালাতে চাইলে এলাকার মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে খাল খনন কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিরু আলম বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে আমরা খাল খনন করছি। কারও ক্ষতি হোক এটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর বিভাগীয় দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আপনাকে সঠিক তথ্য দিতে পারবে।