বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সারওয়ার আলীর জন্ম ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহ শহরে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। এর বাইরে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় তার গ্রন্থ ‘পেরিয়ে এলাম অন্তবিহীন পথ’। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ফয়সাল আহমেদ
দেশ রূপান্তর: এ মুহূর্তে অনেকগুলো মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, শুরু হয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের নানা আয়োজন। সেই সঙ্গে মার্চের ২২ তারিখ ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ রজতজয়ন্তী উদ্যাপন করবে।
সারওয়ার আলী: একাত্তরে সারা বিশ্ব দুই পরাশক্তি-বলয়ে বিভক্ত ছিল। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন প্রশাসন বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যার প্রতিবাদ না করে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। এর বড় কারণ, তখন সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন-চীন সমঝোতা চলছিল। হেনরি কিসিঞ্জার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান সফরে এসে এক দিন গোপনে চীন সফর করেন। কিন্তু এ সময় সবাইকে জানানো হলো তিনি হোটেলে বিশ্রামে আছেন। বিষয়টি পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের গণহত্যা নয়, ভৌগোলিক স্বার্থটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ সময় ভারতে লাখ লাখ শরণার্থী ঢুকছে। সে সময় ১৩-১৬ মে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল সারা বিশ্বের বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক কর্মী ও শান্তিকামী মানুষের ফোরাম। সম্মেলনে ভারত একটি প্রতিনিধিদল পাঠায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারও একটি তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠায়। দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদ, (যিনি পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন)। সঙ্গে ছিলাম দেওয়ান মাহবুব আলী (সম্মেলন থেকে ফেরার পথে তিনি নয়া দিল্লিতে হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান) ও আমি। সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষে বাংলাদেশের গণহত্যা বন্ধ করা ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাওয়া হয়। অপরপক্ষে আমরা বলি, স্বাধীনতা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সম্মেলনে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন আমরা পাই। এ সময় আমরা রাশিয়া সফর করি, সেখানকার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করি। সেখান থেকে ফেরার পথে সোভিয়েত রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ডিপি ধর আমাদের বলেন, এখন ভারত-সোভিয়েত ‘মৈত্রীচুক্তি’ বিষয়ে আলোচনা চলছে, এ সময় আপনাদের এ সফর ও বক্তব্য কাজে আসবে। এরপর সোভিয়েত ইউনিয়ন কার্যকর ভূমিকা নেয়। যার ফলাফল আমরা দেখতে পাই। তখন ভারতের পক্ষেও কাজ করতে অনেক সহজ হয়েছে।
দেশ রূপান্তর: একাধারে আপনি চিকিৎসক, সমাজ-সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আপনি কীভাবে হিসাব মেলাচ্ছেন? প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে?
সারওয়ার আলী: স্বাধীনতার ৫০ বছরে ঈর্ষণীয় অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে জাতীয় আয় বেড়েছে, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে দেশ। এ কথা এখন বলতেই হয়, সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সফলতা আমাকে আশাবাদী করে। আবার কিছু ঘটনা হতোদ্যম করে। যেমন ধনবৈষম্য বেড়েছে, সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটেছে, দেশ সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি আশাহত হই। যে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারে, সে সরকার ধর্মান্ধদের দাবির ভিত্তিতে পাঠ্য-পুস্তকে পরিবর্তন আনে। বঙ্গবন্ধু আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু এখন মুক্তচিন্তার প্রকাশ সংকুচিত হচ্ছে। আমি আশা করব সমাজ ও রাষ্ট্র এই সীমাবদ্ধতা দূর করবে। এ ক্ষেত্রে আমি তরুণদের ওপর ভরসা করি।
দেশ রূপান্তর: আপনি বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখেছেন, কিংবা কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তাকে নিয়ে কোনো স্মৃতি?
সারওয়ার আলী: বঙ্গবন্ধুর কাছে তিনবার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি, সম্ভবত ১৯৭৩ সালের ঘটনা। আমি তখন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাধারণ সম্পাদক। তখন বঙ্গবন্ধু একবার ঢাকা মেডিকেল এলেন কোনো একজন রোগী দেখতে। স্বচক্ষে মেডিকেলের দুরবস্থা দেখে তিনি প্রেসের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। তারপর আমরা এর প্রতিবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে সভা করি। এরপর প্রায় ২০০ চিকিৎসকের একটি মিছিল নিয়ে গণভবনে যাই। কোনোরূপ বাধা ছাড়াই আমরা ভেতরে ঢুকে গেলাম। কোনো প্রহরী নেই! বঙ্গবন্ধু পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি পরে আমাদের সামনে এলেন। তিনি তখন আমাদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কাসেমকে তার পাশে ডেকে নেন। আর আমিসহ আরেকজনকে নাম ধরে বললেন, আচ্ছা, তোরা তোদের বাবাকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাবি? দেখুন, তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিয়ে কতটা ভাবতেন! আর একটা বিষয় আমার ভীষণ মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কতটা নিরাপত্তাহীন ছিলেন!
দেশ রূপান্তর: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে দাঁড়িয়ে আপনাদের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন কতটা কী হতে পারল? দেশে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কেন তৈরি হলো না?
সারওয়ার আলী: সাধারণত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রই করে থাকে। যেহেতু আমাদের এখানে রাষ্ট্র এটা করেনি, তাই আমরা নাগরিকরাই এ উদ্যোগ নিয়েছি। তবে, এখানে বলা দরকার, শুরু থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পেয়েছি। আরেকটি বিষয় হলো, ব্যক্তি উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করে একটা উপকারও পেয়েছি। এখানে সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকায় বস্তুনিষ্ঠভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। সব সময়ই যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন সরকার ক্ষমতায় আছে বা থাকবে এমনটি নয়।
দেশ রূপান্তর: ১৯৯৫ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কু চৌধুরীর বাসায় যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার প্রস্তাব আপনি দিয়েছিলেন...
সারওয়ার আলী: হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম। কিন্তু সবার নিশ্চয়ই একই চিন্তা ছিল, না হয় এটা হতো না। কাজেই এটা আমার একক বিষয় নয়।
দেশ রূপান্তর : ২২ মার্চ ১৯৯৬, স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি নাগরিকের কাছে আজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেমন ছিল সেই যাত্রা?
সারওয়ার আলী: জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি পর্বে আমরা একটা ট্রাস্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিই। তারপর আমরা প্রত্যেকে ২৫ হাজার করে টাকা দিই। সেই দুই লাখ টাকা দিয়ে ট্রাস্ট গঠন শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট’ নামে দলিলটি তৈরি করেন সারা হোসেন। সিদ্ধান্ত হলো, ট্রাস্টে কোনো সভাপতি থাকবে না, সব ট্রাস্টি সমান ক্ষমতার অধিকারী, তবে একজন ট্রাস্টি সচিব হিসেবে যাবতীয় কর্মকা- সমন্বয় করবেন। পরে সিদ্ধান্ত হয় ট্রাস্টিদের মধ্যে একজন পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সদস্যসচিব নির্বাচিত হবেন। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্টের প্রথম সদস্য সচিব আক্কু চৌধুরী। তারপর সেগুনবাগিচায় একটি ভাড়াবাড়িতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করি। ২২ মার্চ ১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। সামনের রাস্তায় মঞ্চ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। সেদিন ঢাকায় হরতাল ছিল। নিরপেক্ষ তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সেই হরতাল আহ্বান করেছিল। তা সত্ত্বেও কয়েকশ বিশিষ্টজন রিকশাযোগে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পতাকাবাহী গাড়ি নিয়ে আসেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার। সেদিন বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে ট্রাস্টিদের পক্ষ থেকে আমি স্বাগত ভাষণ দিই। তারপর হঠাৎই শুরু হয় বুনোঝড় ও মুষলধারে বৃষ্টি। অবাক করার বিষয় হলো, সেদিন অধিকাংশ আমন্ত্রিত অতিথি বৃষ্টিতে ভিজেছেন তবু অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেননি। ভেজা পোশাকেই সবাইকে নিয়ে ট্রাস্টিরা রুমের মধ্যে ঢুকে শিখা চিরন্তন প্রজ্বালন করল। এ সময় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সহশিল্পীরা বাড়িটির দোতলার বারান্দা থেকে গাইছেন ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে, কত প্রাণ হলো বলিদান’।
দেশ রূপান্তর: জাদুঘর প্রতিষ্ঠার খুব অল্প সময়, সম্ভবত ২০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলো বিশ্বমানের বিশাল স্থায়ী অবকাঠামো? কীভাবে সম্পন্ন করলেন এই বৃহৎ এই কর্মযজ্ঞ?
সারওয়ার আলী : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে বুঝতে পেরেছি, সততার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারলে টাকা কোনো বিষয় নয়। মানুষ দিতে চায় কিন্তু তেমন বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পায় না। অর্থাৎ পয়সার অভাবে সৎকর্মে খুব বিঘœ ঘটে না। দেশের ও বিদেশে অবস্থিত বাঙালিরা যেভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাতে আমাদের এই বিশাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে তুলতে সমস্যা হয়নি। ট্রাস্টি ও স্বেচ্ছাকর্মীদের আন্তরিকতা ছিল। জাদুঘরের প্রদর্শনী একটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান। এ বিষয়ে আমাদের কোনো পারদর্শিতা ছিল না। সুতরাং আমাদের প্রয়োজন পড়েছিল একজন কর্মীকে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে স্মারক সংরক্ষণ ও প্রদর্শন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের। পরে আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রদর্শনীর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরামর্শক দলের সহযোগিতা গ্রহণ। এ কাজটি করেছেন জাদুঘরের কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাকর্মীরা, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের উপদেশ একান্ত প্রয়োজন ছিল।
দেশ রূপান্তর: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য স্মারক সংগ্রহের কাজটি আপনারা কীভাবে করলেন?
সারওয়ার আলী: ১৯৯৫ সালে বাড়িভাড়া নেওয়ার পর আমরা সবাই মিলে স্মারক সংগ্রহে নামলাম। প্রথমে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, চারটি বিভাগীয় শহরের বধ্যভূমি থেকে শহীদের রক্তস্নাত মাটি সংগ্রহ করব। সেই লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা সফরে যাই। প্রথমে খুলনা শহরের উপকণ্ঠে গল্লামারী বধ্যভূমি থেকে মাটি সংগ্রহ করি। তারপর রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফরে যাই। রাজশাহীর মেয়র মিজানুর রহমান মিনু পদ্মা নদীর পাড়ে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা হলের বধ্যভূমিতে নিয়ে যান। আর চট্টগ্রামের মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী পাহাড়তলী বধ্যভূমির মাটি সংগ্রহের উদ্যোগ নেন এবং একটি সভার আয়োজন করেন। তারপর ঢাকায় ফিরে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সংগ্রহের জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাই। আমরা বিপুল সাড়া পেলাম। বুঝলাম, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবাররা দীর্ঘ ২৫ বছর এমনই একটি প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষায় ছিল। অনেকে পাকিস্তান আমলের গণ-আন্দোলনের সময়কার সংবাদপত্র, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত বিভিন্ন বিদেশি পত্রিকার কাটিং এনে দিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী নিয়ে আসেন এবং একটি বিশেষসূত্রে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রও পাই।
দেশ রূপান্তর: আপনি একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন ‘পেরিয়ে এলাম অন্তবিহীন পথ’...?
সারওয়ার আলী: এটি আমার আত্মজীবনী নয়। সারা জীবন ধরে যে নানা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম সে বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা এবং এ সংগঠনসমূহের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র।
দেশ রূপান্তর: করোনাকালে অনেক সীমাবদ্ধতা ও ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সারওয়ার আলী: আপনাকেও ধন্যবাদ।