টিকার কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্নমত যুক্তরাষ্ট্রে

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া পরীক্ষার যে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে তা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে দাবি করেছে দেশটির একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। গত সোমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকা দাবি করে, তৃতীয় ট্রায়ালে টিকাটি বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে দেখা গেছে। আর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ঠেকাতে কার্যকর ১০০ শতাংশ। প্রায় ৩২ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা ওই টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজেস (এনআইএআইডি) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, প্রকাশিত ফলাফলে পুরনো তথ্য থাকতে পারে। এক বিবৃতিতে এনআইএআইডি বলেছে, পুরনো তথ্য থাকার কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার অভিযোগ ওঠার পর আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানিসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে। পরে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন্স এজেন্সি (ইএমএ) জানায়, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর। এরপরই বেশ কয়েকটি দেশ ওই টিকাদান কার্যক্রম আবারও শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

এনআইএআইডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্বেগ সম্পর্কে সোমবার রাতে জানতে পারে তারা। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের প্যানেল ডাটা অ্যান্ড সেফটি মনিটরিং বোর্ড (ডিএসএমবি) তাদের এই সম্পর্কে জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা কোম্পানিটিকে ডিএসএমবির সঙ্গে কাজ করে যত শিগগির সম্ভব কার্যকারিতার তথ্য পুনর্মূল্যায়ন এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে এনআইএআইডির বিবৃতিতে কোনোভাবেই বলা হয়নি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি অনিরাপদ কিংবা এটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে অনুমোদন পাওয়া এই টিকাটি ইতিমধ্যেই কোটি কোটি মানুষ গ্রহণ করেছেন।

গত সোমবার অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, চিলি ও পেরুর প্রায় ৩২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। এই ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রে টিকাটির অনুমোদন পাওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী মাসের শুরুতে এই অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ কোটি ৪২ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারস জানিয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ কোটি ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৩। এর মধ্যে ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১০ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৮০ জন।

ওয়ার্ল্ডমিটারসের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০০। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪ জনের। আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ৫১ হাজার ৬১৯। এর মধ্যে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩০। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।