আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সীমার (সিলিং) চেয়ে ৪ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা বেশি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক ত্রিপক্ষীয় সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয় করার সক্ষমতা বাড়ানোরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের উন্নয়নকল্পে কিছু বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তি চাহিদা ছিল আমাদের। কিন্তু অর্থ বিভাগ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে। এই টাকা দিয়েই উন্নয়ন প্রয়োজন মেটাতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয় করার সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) সক্ষমতার ঘাটতি অন্যতম কারণ।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চলতি অর্থবছরে ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং ২০টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৭-২০২২ সাল মেয়াদে গৃহীত চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচির আওতায় ২১টি অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) চলমান রয়েছে। আগামী অর্থবছরের সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ১১টি প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করাসহ বাস্তবায়নাধীন ও ওপিসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিশ্চিত করতে হবে বলে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানায় স্বাস্থ্য সচিব।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী কভিড পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের আওতায় ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ ৪ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। এজন্য প্রকল্পের সাহায্যের বরাদ্দ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া উপজেলা হেলথ কেয়ার ও কক্সবাজারের জেন্ডার সাপোর্ট শীর্ষক দুটি ওপির জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন।