চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামে বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) একই উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের নুরুল্লাহ পুর গ্রামের রনজিদ মল্লিকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিতুদহ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা শুকুর আলী ছয়ঘরিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করে আসছেন। শুকুর আলীর অনুসারী জাহাঙ্গীর আলম ওই বালির ব্যবসায় দেখাশোনা করতেন। এ বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অপর আরেকটি পক্ষ তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় বুধবার দুপুর ১টার দিকে ছয়ঘরিয়া গ্রামের কেরু মাঠ এলাকায় বালি উত্তোলনস্থলে গেলে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে জখম করে। মারধর করার পর তাকে ফেলে রেখে গেলে স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই ইকবাল হোসেন জানান, বালি উত্তোলন ও চাঁদা দাবি নিয়ে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের সঙ্গে জাহাঙ্গীরদের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীরকে কোদাল, বেলচা ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

তিতুদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শুকুর আলী জানান, জাহাঙ্গীর তার বালির ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। দুপুরে তিনি বালি উত্তোলন স্থলে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় অংশ নেয় রাজনৈতিক দলের একটি অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

নিহত জাহাঙ্গীর আলম তিতুদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হচ্ছে।