কন্ট্রাক্টে জ্বলে ওঠা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

দীর্ঘদিন ধরে দর্শককে বুঁদ করে রেখেছেন গুণী অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তার মতো অভিনেতা এদেশে অল্প। হাতে গোনা হলেও এ অভিনেতারা প্রত্যাশা পূরণ করেন বলেই হয়তো দর্শকের কোনো আক্ষেপ কাজ করে না। কিন্তু এই অভিনেতারাও যে অন্যমাত্রায় জ¦লে উঠতে পারেন, উঠে আসতে পারেন নতুন আলোচনায় তা অনেকেই ভাবেন না। বেশিরভাগ নাটক সিনেমায় তাদের একই ধরনের শান্তশিষ্ট বাবার চরিত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়। যখনই তার বাইরে কিছু করার সুযোগ আসে তারা ছাপিয়ে যান সুপারস্টারদেরও। সম্প্রতি তেমনটাই হয়েছে। ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া দেশীয় কনটেন্ট ‘কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে নতুন করে জ¦লে উঠেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। তার অভিনীত চরিত্র অমূল্য বাবুকে নিয়ে এখন আলোচনা শোনা যাচ্ছে চারদিকে। জয়ন্ত চট্টোপধ্যায় বলেন, ‘ভালো চরিত্র পেলে এমনিতেই অভিনয় ভালো হয়। তবে শুধু নিজের চরিত্রটি ভালো বলেই কাজ করিনি। কন্ট্রাক্ট নির্দেশনা দিয়েছে আমার ছেলে কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও তার বন্ধু তানিম নূর। তাদের দুজনের সঙ্গেই আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে আমি জানতাম তারা কী ধরনের প্রোডাকশন করে। কোন দৃশ্যে ছাড় দেবে না। তাই কাজটি আগ্রহ নিয়ে করেছি।’ অমূল্য বাবু চরিত্রটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চরিত্র চারপাশে হরহামেশা দেখা যায় না। চরিত্রটি দেখলে এক কথায় বলা যাবে না, এটি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক চরিত্র। চরিত্রটি রাজনীতির মাঠে থাকে না, কিন্তু অন্তরালে থেকে রাজনীতির বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চরিত্রটি খুব শান্ত, কিন্তু অবলীলায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। কন্ট্রাক্ট-এ আমার যুবক বয়স আর পরিণত বয়স দেখানো হয়েছে। গল্পটির প্রেক্ষাপট অনেক দিনের। আমিই শুভকে রাস্তা থেকে তুলে এনে আশ্রয় দিই। সবমিলিয়ে কয়েকটি শেড আছে চরিত্রটির। এ ধরনের চরিত্র পেলে অভিনয়ের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।’

কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সচেতনভাবে কাজ করেছি। শ্যুটিং ইউনিট থেকে মাস্ক, সেনিটাইজার, হাইজিন খাবার, সেনিটাইজ করা গাড়ি সরবরাহ করেছে। প্রত্যেকে ডিসিপ্লিন মেনে কাজ করেছে। দুই ঘণ্টা পর পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে হতো। এত তারকাবহুল কাস্টিং নিয়ে কাজ এখন খুব একটা হয় না। তারিক আনাম খান, শমু চৌধুরী, মাহমুদ সাজ্জাদ, চঞ্চল চৌধুরী, আরিফিন শুভ, শ্যামল মাওলা, মম, মিথিলা, আইশা খান ছিল সহশিল্পী। প্রত্যেকের সঙ্গে আমার দৃশ্য ছিল। সাত-আট দিন শ্যুটিং করেছি। কাজটি করার সময়ই বুঝতে পারছিলাম দর্শক পছন্দ করবে। এখন সবাই সত্যি সত্যি এটা গ্রহণ করেছে দেখে ভালো লাগছে।’

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন সম্প্রতি। নাম চূড়ান্ত না হওয়া এই কাজটি নিয়েও তিনি দারুণ আশাবাদী। বললেন, ‘ফারুকীর কাজটিতেও দারুণ একটি চরিত্র পেয়েছি। কিছুদিন আগেই এফডিসি ও নাখালপাড়ায় ৩-৪ দিন শ্যুটিং করেছি। এই চরিত্রটিও রাজনীতিঘেঁষা। কিন্তু কন্ট্রাক্ট-এর চরিত্রের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এখানে আমার আর আফজাল হোসেনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকে। সেটা একপর্যায়ে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে পৌঁছায়। সহশিল্পী হিসেবে আরও ছিলেন নাদের চৌধুরী, তাসনিয়া ফারিনসহ আরও অনেকে।’ 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় নাটকের চেয়ে এখন সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ছবিটি। একই পরিচালকের ‘১৫ আগস্ট’ ছবিতেও কাজ করেছেন। এছাড়া শ্যুটিং বাকি আছে হৃদি হকের সরকারি অনুদানের ছবি ‘একাত্তর : সেইসব দিনগুলো’র। এর বাইরে একাত্তরের পটভূমি নিয়েই দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

এ বছরের বইমেলাতেই প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল এই গুণী শিল্পীর স্মৃতিকথামূলক বই। কিন্তু করোনার কারণে বইমেলা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় বইটির কাজ পিছিয়ে যায়। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার বইমেলা হবে কি না সেটা নিয়েই দোলাচল তৈরি হয়েছিল। যদিও হচ্ছে, তাও স্বল্প পরিসরে। ভাষার মাসে বইমেলার যে অভ্যাস মজ্জাগত হয়ে গেছে, মার্চে সেই আমেজটাও আসে না। তাই বইটি এখনই প্রকাশ করতে চায়নি প্রকাশক। তাছাড়া বইমেলাতে বই বেরুলেই যে বেশি বিক্রি হবে তেমন কোনো কথা নেই। এটা একটা উপলক্ষ মাত্র। সামনে ভালো উপলক্ষ দেখে বইটি প্রকাশ করা হবে।’