জন উডরাফের প্রতিবেদনে ২৫ মার্চের কালরাত্রি

১১ মে ২০০৫ এলেইন এলিস ওয়াকার উডরাফ নিউ জার্সির ওয়েস্টফিল্ডে গ্লেনসাইড নার্সিং হোমে ৯৬ বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আগে ছেলেটার কথাই বলেছেন। বাবা ও মা দুজনই নব্বই পেরিয়েছেন, কিন্তু জন বিদায় নিলেন মাত্র সাতান্ন বছর বয়সে ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৩ থেকে ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন কিন্তু সহকর্মীদের কাউকে বুঝতে দেননি। শেষদিকে ক্যানসার নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে করতেই বিদায় নিলেন। একাত্তরের বাংলাদেশ নিয়ে অন্তত একডজন গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট তৈরি হয়েছে তার হাতে। তিনি কেমন ছিলেন রিপোর্টগুলোই তা বলে দেয়।

মিশিগানের গিনভিলে তার জন্ম। উইলিয়ামস কলেজ থেকে ইতিহাসে ১৯৬০ সালে গ্র্যাজুয়েট হয়ে চাকরির জন্য ছোটাছুটি না করে পছন্দের কাজটি নিলেন, সপ্তাহে ৭৫ ডলার বেতনে ম্যাসাচুসেটসের সাপ্তাহিক উইলিয়ামসটাউন নিউজ-এ সাংবাদিকের কাজ নিলেন। ১৯৬৫-তে চলে এলেন বাল্টিমোর সান পত্রিকায়। কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা পেলেন। ১৯৬৯-এ তাকে ভিয়েতনামযুদ্ধ কাভার করতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো ইন্দোচীনে। ১৯৭০-এ হলেন হংকং-এর ব্যুরো চিফ। একাত্তরে বয়স ৩১ বছর। তার ২৭ মার্চ ডেসপাচ রক্তাক্ত বাংলাদেশ নিয়ে। ২৮ মার্চ যা বাল্টিমোর সান প্রকাশ করেছে। একাত্তরের গণমাধ্যম বন্ধু জন ই উডরাফকে সম্মান জানাতে ভাষান্তরিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করছি। উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, ২৭ মার্চ যে কজন বিদেশি সাংবাদিককে বলপূর্বক ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাদের অন্যতম একজন জন ই উডরাফ।

  দুদিনের গোলাগুলি আর জ্বালাও-পোড়াও চালাতে চালাতে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের স্বাধীনতার দিকে ঝুঁকে পড়াটা পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যেন হঠাৎ আটকে দিয়ে ঢাকা শহরকে গুলি ও অগ্নিশিখার শহরে পরিণত করেছে। গতকাল রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বললেন, গণতন্ত্রের দিকে উত্তরণের লক্ষ্যে তার দুই বছরের সতর্ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়ে এসেছে, ততক্ষণে গুলির জোরে সেনাবাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। চারদিকে রেখে গেছে গোলাগুলির দৃশ্যমান চিহ্ন আর পূর্ব পাকিস্তানের সাড়ে সাত কোটি মানুষের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাবন্দি করে ফেলেছে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের এত গোলাগুলির মধ্যে হঠাৎ দু-একটি গুলির শব্দই বলে দেয় কেউ না কেউ সেনাবাহিনীর গুলির জবাবও দিচ্ছে।

সাংবাদিকরা যেসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে এসেছে যে, সৈন্যরা ভারী মেশিনগানে খালি হাতের বেসামরিক জনতাকে কোনো ধরনের সতর্কসংকেত না দিয়েই গুলি চালিয়ে গেছে। এতে কত মৃত্যু ও জখমের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যখন তার অস্বাভাবিক রকম সুরক্ষিত ও সার্বক্ষণিক প্রহরাধীন ঢাকার প্রেসিডেন্ট হাউজ বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে ত্যাগ করলেন এটাও বোঝা গেল আলোচনা ভেঙে যাওয়ার চেয়ে বড় কিছু ঘটেছে। দুঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট হাউজের কড়া প্রহরা অনেকটাই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো, অবশিষ্ট যারা থাকলেন তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞেস করা হলে (প্রেসিডেন্ট কোথায় যাচ্ছেন?) তার কাছ থেকে জবাব আসে, এ ধরনের প্রশ্ন করার জন্য এটা বড় খারাপ সময়।

রাত ১১টার দিকে সৈন্যরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের আঙিনায় সবাইকে জড়ো করে তাদের আদেশ দিলএখনই ভেতরে ঢুকে পড়ো নতুবা গুলি করা হবে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শহরের বিভিন্ন দিকে শোনা যাচ্ছে। গতরাত ১২টা ২০ মিনিটে শেখ মুজিবের বাড়িতে ফোন করা হলে শান্ত কণ্ঠে জানানো হয় তিনি ঘুমোচ্ছেন। আজ সকালে করাচি রেডিও বিশেষ করে শেখ মুজিবের অবস্থানের কথা জানায়। সেই ফোন কলের এক ঘণ্টা দশ মিনিট পর শেখ মুজিব ও তার পাঁচজন অনুসারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ততক্ষণে হোটেলে দায়িত্বরত সৈন্যরা সবুজ-লাল ও সোনালি রঙের যে বাংলাদেশের পতাকা উড়ছিল তা ছিঁড়ে ফেলে এবং লনে স্তূপীকৃত ছেঁড়া পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। কামানের গোলার শব্দ প্রথম শোনা যায় শুক্রবার রাত (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) ১টার দিকে, বিশ^বিদ্যালয়ে তাদের নতুন ঘাঁটি থেকে, এখানে ছাত্রনেতারা দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। ২৫ থেকে ৩০ ট্রাকভর্তি সৈন্য হোটেলের সামনে দিয়ে দেড় মাইল দূরের ক্যাম্পাসের দিকে চলে গেল। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসের দিক থেকে আসা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে থাকল।

রাত ২টার দিকে একই দিক থেকে আসা কামানের গোলার শব্দ শোনা গেল। রাত আড়াইটার দিকে দুটো বড় ভবন অগ্নিশিখায় ঢাকা পড়ে গেল সে রাতের প্রথম ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। দশতলার জানালাপথে তাকিয়ে বাঙালি সাংবাদিকরা বলে দিলেন দুটো ভবনের একটি ইকবাল হল, অন্যটি মুহসীন হল দুটোই আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের কর্মকা- চালানোর প্রধান ঘাঁটি। হোটেলে মোতায়েন বাহিনী রাত সোয়া ২টার দিকে রাস্তা পেরিয়ে গলির দিকে ঢুকল, সেখানে দরিদ্র-দশার হলেও ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য পিপল’-এর অফিস। পত্রিকাটি রাখ-ঢাক করে কিছু বলে না, কখনো কখনো দায়িত্বহীনের মতো সরকারের বদনাম করে বেড়ায়। একটি পুরনো গ্যারেজ থেকে দুটি ভাঙা গাড়ি টেনে এনে গলির মুখে তাৎক্ষণিক ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল, সৈন্যরা সেই গাড়ি সরানোর আগে তার ওপর শত শত রাউন্ড গুলি চালাল। একসময় গ্যারেজের ওপরে তিনতলায় চিৎকার শোনা গেল ‘বাঙালি এক হ’ সৈন্যরা শত রাউন্ড রাইফেল ও মেশিনগানের গুলি ছুঁড়ে তার জবাব দিল। সে সময় হাতখালি একদল যুবক উদ্ধত স্লোগান দিতে দিতে হোটেলে পাশের রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছিল, রাস্তার দুপাশে গাছ। সৈন্যরা জিপ থেকে মেশিনগান ছাত্রদের দিকে ঘুরিয়ে গুলি করতে শুরু করল। আতঙ্কিত ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটল, তাদের পেছনে আসছে জিপভর্তি সশস্ত্র সৈন্য। বাঙালি এক হওয়ার আহ্বান জানানো স্লোগান যে গ্যারেজ থেকে আসছিল, সৈন্যরা আবার সেখানে ফিরে আসে। তারা দরজা ভেঙে কজন লোককে ভেতরে পাঠায়। কয়েক সেকেন্ড পর তারা যখন ফিরে আসে, দেখা গেল ভেতরে দরজার কাছে আগুনের একটি শিখা। দ্রুত এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজ এবং ভেতরের সবকিছু গ্রাস করে নিল। চারদিকে গুলি করতে করতে সৈন্যরা সংবাদপত্রের অফিসটির দিকে গেল। তারা যখন গেটের কাছে পৌঁছাল, পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা উর্দুতে চেঁচিয়ে কিছু সতর্কবাণী স্লোগান এ ভাষা এখানে তেমন প্রচলিত নয়। ভেতর থেকে কাউকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল না। সৈন্যরা ভবনটিতে রকেট নিক্ষেপ করল, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ও মেশিনগানের শত শত রাউন্ড গুলি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ল। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কয়েক সেকেন্ড পর যখন তারা বেরিয়ে এলো, তখন ভেতরে দাউ দাউ করা আগুন জ্বলতে শুরু করল। হোটেলের আঙিনায় ফিরে আসার আগে তারা ‘নারায়ে তকবির’ ধ্বনি দিল। মুসলমানদের ধর্মীয় এ স্লোগানের মানে ‘আল্লার জয়’-এর সঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জড়িত।

চেঁচিয়ে তারা উর্দুতে বলল, ‘আমরা যুদ্ধে জিতে গেছি।’ ভোর ৪টার দিকে দুজন হোটেলের ভেতরে এসে জগভর্তি চা নিয়ে গেল। ততক্ষণে চারদিকে অন্তত আধা ডজন বিশাল অগ্নিকান্ড চোখে পড়ল এবং ভোর সোয়া ৪টার দিকে সবচেয়ে বড় অগ্নিকা-টি দেখা গেল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সেনানিবাসের দিকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আগুন জ¦লল। আগুন লাগার প্রথম আধঘণ্টায় বেরিয়ে এলো ডজন ডজন বড় অগ্নিশিখা এবং শোনা গেল বড় বিস্ফোরণ গোলাবারুদের মজুদে আগুন লাগলে যেমন বিস্ফোরণ হয়, ঠিক তেমন। ওপরের দিকে মনে হলো দুই একর বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ জায়গায় দাউ দাউ করে আগুন জ¦লছে; অগ্নিশিখা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আকাশ লেহন করে যাচ্ছে এবং ধোঁয়ার স্তম্ভ শত শত ফুট ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে।

ভোর ৫টা ২০ মিনিটে ছয়টি চীনা টি-৫৪ ট্যাংক গুড়গুড় গর্জন করতে করতে হোটেলের সামনে এলো। সেখানে প্রায় কুড়ি মিনিট অবস্থান করল। একটি ট্যাংকের কামান সারাক্ষণ হোটেলের একটি কোণের দিকে তাক করা ছিল। কিছুক্ষণ পর একটি লম্বা ট্রাক হোটেলের সামনে দিয়ে গেল, এর গভীর পাটাতনে আমেরিকায় তৈরি কার্বাইন এবং কমিউনিস্ট ব্লকের একে-মডেলের অটোমেটিক রাইফেল। ১৯৫৫ সাল থেকে আমেরিকার পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সাহায্যের খতিয়ান নেওয়া যাবে আমেরিকায় তৈরি পুরনো মডেলের ভারী অস্ত্র দেখে মনে হচ্ছে হয়তো কম নির্ভরযোগ্য বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে এগুলো আনা হয়েছে অথবা অস্ত্রাগারের বাড়তি অস্ত্রগুলো বণ্টনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

সারা দিন বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলি চলেছে, ভোরের দিকে লাউডস্পিকার নিয়ে ট্রাকের সৈন্যরা ঘরবাড়ির মানুষদের সতর্ক করে দিয়েছে। লোকজন তাড়াতাড়ি ছাদে উঠে তাদের উঠানে বাংলাদেশের পতাকা এবং কদিন আগের সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে উত্তোলন করা কালো পতাকা নামিয়ে নিয়ে এলো। গতকাল সকালে (২৬ মার্চ) তীক্ষ্ন কণ্ঠে ঢাকা রেডিওতে হত্যাযজ্ঞের সতর্কবাণী দেওয়া হলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরে কারফিউ বলবৎ থাকবে। একজন কর্মকর্তা বললেন, সারা দিন লাউডস্পিকারে জনগণকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের রাতে হোটেলের কাছে গোলাগুলির সময় কিন্তু এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা শোনানো হয়নি।

সকাল সাড়ে ৮টায় ভুট্টো এবং তার দলবল সৈনিকদের কঠোর প্রহরায় হোটেল ছাড়েন, বেসামরিক পাঞ্জাবিদের হাতে ছিল কমিউনিস্ট ব্লকের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। ভুট্টোর অবয়বে দৃঢ়তা পরনে ধূসর রঙের স্যুট। তিনি দুবার উচ্চারণ করলেন, আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। সকালে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল হোটেলে এলেন এবং নিজের পরিচয় দিলেন যে তিনি হোটেলসহ দুই বর্গমাইল এলাকার কমান্ডার। দুপুরে তিনি হোটেল ব্যবস্থাপকদের বললেন, ‘বিদেশিদের অনুমতি দেওয়া হবে’ (এই কথার তিনবার পুনরাবৃত্তি), ‘তারা সুইমিং পুল ব্যবহার করতে পারবেন’। ভোর ৬টার দিকে হোটেলে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকরা টেলিফোন পেতে শুরু করেন যে, সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান তাদের চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সামরিক সরকারের গণসংযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মেজর সিদ্দিক সালিককে একজন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী ধরনের পরামর্শ? জবাবে তিনি বললেন, ‘কিছু কিছু পরামর্শ মানা বাধ্যতামূলক।’ কেন তাদের চলে যেতে হবে এ কথা সাংবাদিকরা বারবার লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু তিনি তা এড়িয়ে জবাব দিলেন, ‘আমরা চাই আপনারা চলে যাবেন, কারণ ব্যাপারটা আপনাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। ভীষণ রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’

হোটেলে অবস্থানরত ৩০ জন সাংবাদিকের শেষজনকে অপেক্ষমাণ চারটি ডজ আর্মি ট্রাকের একটিতে তোলা হলো কিন্তু গাড়ির বহরের সবাই অপেক্ষা করলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ভাষণ শুনে তারা বেরোবেন সেই ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো এবং শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো।

জেনারেল ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রশংসা করে বললেন, ‘আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।’ তারপর ট্রাক চলতে শুরু করল, সামনে ও পেছনে রাইফেল হাতে ট্রাকভর্তি সৈনিক গাছ, মাটির পাইপ, ভাঙাচোরা জিনিসপত্র, গলিঘুপচিতে পোড়া ঘরবাড়ি রাস্তায় ফেলে তৈরি করা ব্যারিকেড ডিঙিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হলো সেসব বাড়িঘরের প্রতিটির দেয়ালে টাঙানো ছিল শেখ মুজিবের ছবি ট্রাক যখন এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছে, তখন সশস্ত্র সৈন্যরা আগুন লাগানো এক গ্রামের দিকে তাকিয়ে আছে।

 নিজেকে আড়ালে রেখে জন ই উডরফ যে নৈর্ব্যক্তিক প্রতিবেদনটি লিখেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের যেমন অন্যতম এক দলিল; নিজেকে আড়ালে রেখে প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম উদাহরণ।

লেখক কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক