নারায়ণগঞ্জে ফটো সাংবাদিক প্রীতমকে মারধরের ঘটনায় মামলা

নারায়ণগঞ্জে জমি দখলের উদ্দেশ্যে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ছবি তোলায় ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতমকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ সাংবাদিকের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে বলে নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।

এর আগে ২৩ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের জেলা কারাগারের বিপরীত পাশে সস্তাপুর এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও বেধড়ক মারধরের শিকার হন প্রীতম।

এই ঘটনায় হামলার শিকার প্রীতম ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, জেলা ট্রাক ও ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাজী রিপন ও স্বপ্ননীড় হাউজিং লিমিটেডের মালিক হারুন অর রশীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ফটো সাংবাদিক প্রীতম উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থিত জেলা কারাগারের বিপরীতে একটি জমির উপর নির্মিত দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর সংবাদ পান তিনি। বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজের ‘নিকন ডি-৭০০’ মডেলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন। ছবি তুলতে দেখে সন্ত্রাসীরা তার দিকে তেড়ে আসে। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজী রিপন তার হাতে থাকা স্টিলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। একই সময় কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান লোহার রড দিয়ে প্রীতমকে পেটান।

দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তিন নম্বর আসামি হারুন অর রশিদ এবং ৪০-৫০ জন হামলাকারী লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠ, বাঁশসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে ফটো সাংবাদিক প্রীতমকে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের শিকার প্রীতমের স্মার্টফোন, পকেটে থাকা টাকাসহ মানিব্যাগও ছিনিয়ে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হামলা এড়াতে দৌড়ে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে চায়ের গরম কেটলি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। মাথা, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়িতে শয্যায় আছেন।

এদিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, অবৈধভাবে জমি দখলের ঘটনায় সেখানে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জড়ো হয়। সেখানে ছবি তুলতে গেলে মারধরের শিকার হন সাংবাদিক প্রীতম। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও মারধর করেননি বলে দাবি করেন কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান।