মোদির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে শাল্লায় হামলা: ডা. জাফরুল্লাহ

সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটনার পেছনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ক্ষোভ কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, মেজর হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে ‘সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁওয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও

লুটপাটের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি’তে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেখানের মানুষ মোদিকে আনাটা পছন্দ করে নাই। মোদির বিরুদ্ধে ক্ষোভটাকে উত্ত্যক্ত করার জন্য ওই জায়গাটা চুজ করেছে। ১৭ মার্চটাকে চুজ করেছে। পরিকল্পিতভাবে মোদির আগমনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য সরকার দলের লোকেরা এই কাজ করেছে। সরকারি দলের মনে করার কিছু নাই যে, নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দেওয়ার জন্য সবাই উৎফুল্ল হয়ে বসে আছে। ভেতরে ভেতরে ফুঁসে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আপনার দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আপনার আমলে কেন এই লজ্জাজনক ঘটনা হবে? সেখানে মন্দিরের বিগ্রহ কেন নিয়ে যবেন? এত দরিদ্র এলাকা আমি বহুদিন দেখি নাই। আমি অবাক হই এই ধরনের দারিদ্রতা আমাদের দেশে এখনো আছে’।

সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁও পরিদর্শনের প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্রচিন্তার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু,  প্রাণী গবেষক ম এনাম আল হক, ব্যারিস্টার সাদিয়া আমিন প্রমুখ।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ওই গ্রাম আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত, ওই গ্রামে শুধু সজল সরকার নামে একজন বিএনপির লোক আছেন, আমাকে বলেছেন স্থানীয়রা এবং আওয়ামী লীগের লোকজন। ঝুলন দাস বিএনপি করেন- এটা স্থানীয় আওয়ামী লীগ জানে না, তারা নাকি প্রথম এই কথা পত্রিকা মারফত শুনেছেন বলেও জানিয়েছেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনও হামলার সব জানতো। প্রশাসন তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিল, হামলা হবে না। তাই গ্রামবাসী পালিয়ে যায়নি। তবু হামলা হয়েছে। এ ঘটনা আমি খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছি। এই কাজে মসজিদের তিনটি মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের ওপর কর্তৃত্ব কাদের থাকে? সরকারি দলের থাকে। তিনজন সরকারি দলের নেতা মাইক ব্যবহার করেছে। এ এলাকা খুবই প্রত্যন্ত অঞ্চল। আমরা সেখানে গিয়েছি। সেখানের মানুষের দারিদ্রতা দেখে বুঝেছি দারিদ্রতা কতো কঠিন। এক-দেড় রুমের খুপড়িতে তারা বাস করে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে যা অকল্পনীয়। আমরা ভেবেছিলাম রামু, নাসিরনগরেই শেষ ঘটনা। এত দিন থাকতে ১৭ মার্চ কেন তারা বেছে নিল? বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে কেন বেছে নিয়েছে? কারা বেছে নিয়েছে? সরকার দলের কর্মীরা। বেছে বেছে এই দিনটাকেই তারা এই কাজটি করেছে’।

ওই দিনের হামলায় প্রশাসনের নির্লীপ্ত থাকার অভিযোগ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সেখানের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার পেয়েছি। যাদের মধ্যে ১০ জন সংখ্যালঘু এবং একজন মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় এই ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, হামলার বহু আগে তারা ইউএনওকে জানিয়েছেন এবং সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু তাদের ইউএনও সাহায্য তো করেইনি বরং ফোনে ওই সময় দুর্ব্যবহার করেছেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০ পরিবারের বাড়ি নির্মাণ, একজন বিচারপতি, সাবেক আইজিপি নুর মোহাম্মদ ও  সাবেক সেনা কর্মকর্তা এম করিমের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, শেখ রেহেনাকে প্রধান করে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং মসজিদের মাইক ধর্মীয় কাজ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করার দাবিও জানান ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

ফেইসবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত বুধবার সকালে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালিয়ে পাঁচ মন্দির ও ৮৮ বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আসবাবপত্র তছনছ করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শাল্লা থানা পুলিশের এসআই আব্দুল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বাদী হয়ে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।