বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে সিআইডির সফটওয়্যার

দেশে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধে অটোমেটেড ব্যালেস্টিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এবিআইএস) সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে বৈধ অস্ত্রের তথ্য ভান্ডার।

মঙ্গলবার থেকে এ সফটওয়ারটির ব্যবহার শুরু করেছে বলে জানায় সিআইডি।

এর অধীনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দুই লাখের বেশি বৈধ অস্ত্রের তথ্য সন্নিবেশিত থাকবে। প্রথম পর্যায়ে গত ১০ বছরে বিক্রি হওয়া অস্ত্রের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে ক্রেতাদের তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।

এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে কাজকে আরো নির্ভুল করবে বলে দাবি করেছেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সিআইডি প্রধান বলেন, আমাদের এখানে আর্মস ফরেন্সিক বিভাগ আছে যেখানে আর্মসের ব্যালেস্টিক রিপোর্ট করে থাকি, শুটিং ইনসিডেন্ট যখন হয় ক্রাইম সিন সেখান থেকে নমুনা নিয়ে আসে। এরপর আমরা ফরেনসিক করে মেলানোর চেষ্টা করি কোন অস্ত্র থেকে গুলি করা হলো। এটা করতে গিয়ে আমরা দেখলাম যে সম্প্রতি আমরা যে ডিএনএ ব্যাংক করেছি, ইনভেস্টিগেশনে এটি খুব ভালো একটা রেজাল্ট পাচ্ছি। এনআইডির যেমন একটি ইউনিক ফিচার আছে, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ডিএনএ, মোবাইলের আএমইআই’র যেমন ইউনিক ফিচার আছে প্রত্যেকটি গানেরও (অস্ত্র) একটি ইউনিক ফিচার আছে। চিন্তা করলাম আমরা অস্ত্রের ফরেনসিক করে থাকি। সেখানে যদি ডাটা ব্যাংক (তথ্য ভান্ডার) করা যায় তাহলে তদন্তে অগ্রগতি হবে। এজন্য আমরা একটি সফটওয়্যার কিনেছি যার নাম অটোমেটেড ব্যালেস্টিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এবিআইএস)। এটি বিশ্বব্যাপী খুব রেপুটেড (জনপ্রিয়) ও ডিপেনডেবল (নির্ভরযোগ্য) একটি সফটওয়্যার। ইনভেস্টিগেশন পারপাসে (তদন্তের ক্ষেত্রে) অনেক বেশি ব্যবহৃত হয় এটি।

তিনি বলেন, লাইসেন্স করা অস্ত্রের তথ্যকে যদি এবিআইএস এ নিয়ে আসি তখন ক্রাইম সিনের কাছ থেকে যখন কোনো গান শুটের ফিচার পাব সেটিকে এনে আমাদের সিস্টেমে দেবো। যদি এটা লাইসেন্স করা আর্মসের হয়ে থাকে তবে সিস্টেম আমাদের তাৎক্ষণিক বলে দেবে কোন আর্মসটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই আর্মস থেকে আমরা আবার মালিকের তথ্য পাব। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করাটা সহজ হবে। যদি না মেলে তখন আমাদের খুঁজতে হবে অবৈধ আর্মস কিনা।

তিনি বলেন, অস্ত্রের ডিলারদের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি। আমরা তাদের গত ১০ বছরে বিক্রি হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য চেয়েছি। আর এখন থেকে যেগুলো বিক্রি হবে সেগুলোর তথ্যও আমাদের কাছে আসবে। গত ১০ বছরেরটা যখন আমাদের সফটওয়্যারে উঠিয়ে ফেলব তখন পরবর্তী ১০ বছরের তথ্য নেব এবং সফটওয়্যারে আমরা উঠিয়ে ফেলব। ডিলাররা আমাদের জানিয়েছেন দুই লাখের বেশি লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে দেশে।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব যারা অর্মস হোল্ডার (ব্যবহারকারী) তাদের যত কম বিরক্ত করা যায়। এ বিষয়ে আমরা আর্মস সেইলর (বিক্রেতা) দের কাছ থেকে তথ্য নেব।