পুষ্পস্তবক অর্পণ নিয়ে বিরোধ

সরাইলে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদে মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গতকাল শুক্রবার ভোরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম ঠাকুর ও সদস্য সচিব নুরুজ্জামান লস্কর সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অনুসারীদের এ সংঘর্ষ হয়।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে সরাইল উপজেলা বিএনপির ১৮৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ওই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আনোয়ার হোসেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্তির দুই মাস পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। ওই কমিটিতে মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুরকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপুকে করা হয় সদস্য সচিব। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিতে আবদুর রহমানকে ১ নম্বর ও আনোয়ার হোসেনকে ২ নম্বর সদস্য করা হয়েছে। আর ৩ নম্বর সদস্য করা হয়েছে সাবেক সহ-সভাপতি আক্তার হোসেনকে। কমিটি প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিএনপির একাংশ। প্রতিক্রিয়ায় সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন দেন পদত্যাগের ঘোষণা, কয়েক দিন তারা কমিটি বাতিলের দাবিতে সভা-সমাবেশও করেন।

এক মাস আগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও এক পক্ষের বাধায় এ সময়ের মধ্যে তারা উপজেলা সদরে কোনো সভা সমাবেশ করতে পারেননি। গতকাল ভোর ৬টার দিকে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জহির উদ্দিন, মশিউর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম খন্দকার মুন্না ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে কয়েক নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ চত্বরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম ঠাকুর, সদস্য সচিব নুরুজ্জামান লস্কর ও সদস্য দুলাল মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে শহীদ মিনার এলাকায় যান। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে আনিসুল ইসলাম ঠাকুরের পক্ষের লোকজন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুতিন মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে এলাকা ত্যাগ করেন।

সংঘর্ষে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এম এম নাজমুল আহমেদ ও এসআই জাকির হোসেনসহ অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে এসআই জাকির হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে পুলিশ উভয়পক্ষের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুলাল মাহমুদ আলী ও শহীদুল ইসলাম এবং বিএনপিকর্মী নূর আলম, নয়ন মিয়া, মাসুম মিয়া ও আবদুল আহাদ। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন আনিসুল ইসলাম ঠাকুরের পক্ষের, আর শেষের তিনজন আনোয়ার হোসেনের সমর্থক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষে যুক্ত থাকার অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে যুবদল নেতা মুন্না ও জব্বারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।’

আর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি অসুস্থ। ঘটনাস্থলে ছিলাম না বলে তেমন কিছু জানি না।’