জলবায়ু সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আমন্ত্রিত অন্যদের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং রয়েছেন।
প্যারিস চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসা উপলক্ষে দুদিনের এই ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল ধরিত্রী দিবসের দিনেই শুরু হবে এ সম্মেলন। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সংকট সংক্রান্ত একটি বড় সম্মেলন। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বাইডেন আয়োজিত সম্মেলনটি পুরোপুরিভাবে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গ্রহণ করা হয়। চুক্তিতে এই শতাব্দীতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বের প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ২০২০ সালে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে যান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই ওই চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা দেন। ওই ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে দুই দিনের ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
শেখ হাসিনা ছাড়া দক্ষিণ এশীয় নেতাদের মধ্যে সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। আরও রয়েছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন প্রমুখ।
চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে বাইডেন বলেন, ‘তারা আমন্ত্রণের কথা জেনেছেন। যদিও আমি এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে কথা বলিনি।’
হোয়াইট হাউজ বলেছে, ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বণ নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী অন্য দেশগুলোও এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগ্রহ পাবে।