চলতি বছর শেষে ব্যাংক খাতের সম্পদের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ বা প্রায় ১ শতাংশ আয় আসতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার প্রকাশিত কভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ প্রকাশনায় এ তথ্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক খাতের সম্পদের বিপরীতে আয়ের ওপর ভিত্তি করেই এ খাতের মুনাফা হিসাব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ১২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ব্যাংক খাতের সম্পদ অপরিবর্তিত থাকলে অন্তত ১৬ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যাংক খাতে মুনাফা হবে বলে ধারণা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক খাতের মুনাফা বাড়ার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তি দেখিয়ে ওই প্রকাশনায় উল্লেখ করে, গত ডিসেম্বরের পর থেকে করোনার প্রভাব কমে আসছে। নতুন করে ঋণ বিতরণের ফলে ব্যাংকের রিটার্ন অন অ্যাসেট বা সম্পদের বিপরীতে আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে।
তবে চলতি বছরের প্রথম ও তৃতীয় প্রান্তিকে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও করছে সংস্থাটি। তবে বিগত বছরের ধারাবাহিকতার আলোকে বছর শেষে ব্যাংকের সম্পদের বিপরীতে আয়ে সার্বিকভাবে একটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয়ের ঋণাত্মক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় ১ শতাংশ বাড়তে পারে এবং ইসলামিক ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় ২ দশমিক ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দক্ষ তহবিল ব্যবস্থাপনা, নিম্ন খেলাপি ঋণ এবং সুদবহির্ভূত আয় বাড়ার ফলে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় বৃদ্ধিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রকাশনায় বলা হয়, গত বছরের মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক খাতের সম্পদের বিপরীতে আয় শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ কমে যায়। জুনে সম্পদের বিপরীতে আয় শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বাড়ে। সেপ্টেম্বর শেষে সম্পদের বিপরীতে আয় বাড়ে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে এর থেকে আরও কিছুটা প্রবৃদ্ধি ধরে চলতি বছরের প্রতিটি প্রান্তিকের সম্পদের বিপরীতে আয়ের প্রবৃদ্ধির হিসাব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছর শেষে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৫ শতাংশে স্থিতিশীল থাকবে বলেও আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রকাশনায় আরও বলা হয়, গত বছরের মার্চ ও জুন প্রান্তিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় ছিল যথাক্রমে শূন্য দশমিক ১৪ ও শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের বিপরীতে আয় ছিল শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে সম্পদের বিপরীতে আয় ছিল শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ।