তান্ডব চালানো কাউকে ছাড় দেব না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত দুদিন যারা দেশে তান্ডব চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, ‘এখন হেফাজতের ভেতরে যেগুলো দেখছি, অনেক উসকানি আসছে। বিভিন্ন মহল থেকে ফেইসবুক, সেগুলোর মাধ্যমে যদি খোঁজা যায় তাহলে দেখা যাবে তারা অন্য দলের অন্য মতাদর্শের লোকজন। আমরা সবাইকেই দায়ী করছি, সবকিছু গুছিয়ে সাক্ষী-প্রমাণ নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

গতকাল রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘হেফাজতের তান্ডবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যাতে আর ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল এতিম, ছোট ছোট শিশুদের রাস্তায় এনে বসিয়ে দিচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় তাদের সামনে রেখে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, তারাই ভিকটিম হচ্ছে। আমরা এগুলোকে মনে করি নাশকতা, এগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জানাচ্ছি, এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য। নতুন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি, অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

তাণ্ডব কি শুধুই হেফাজত করছে, নাকি অন্য কেউ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের যে রণকৌশল, বাঁশের কেল্লা ইনভলভ (যুক্ত) এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, আগে যে জঙ্গি সংগঠনগুলো সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য প্রয়াস চালিয়েছিল তারাই নতুনভাবে এখানে সম্পৃক্ত হয়েছে। এটি আমাদের মনে হচ্ছে। সব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। যে যেখানে থাকুক, আমরা কাউকে ছাড় দেব না।’

জঙ্গি সংগঠন বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আপনারা দেখেছেন কিছু জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে মদদদাতা রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের কিছু অদৃশ্য যখন আমরা সুতা ধরে টান দিই এসব জঙ্গি সংগঠনের নেতাগুলো আগে জামায়াত-শিবিরের নেতা ছিলেন বলে আমরা দেখেছি। হরকাতুল জিহাদ বলুন, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম বলুন, যেটাই বলুন, সবগুলোর মূল নেতৃত্ব এসেছে জামায়াত-শিবির থেকে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সবসময়ই দুই দলে মারপিট করে। দুই গ্রাম, দুই দল সবসময়ই মারপিট করে। আজ কেন যে নিরীহ মানুষের বাড়িঘর পোড়াচ্ছে, সরকারি সম্পদ নষ্ট করছে। আমরা এর পেছনে যে কারণ অনুমান করছি জামায়াত-শিবির হতে পারে, বিএনপির লোকজন মদদ দিতে পারে।’ কিন্তু হরতাল তো ডেকেছে হেফাজত এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, হেফাজত হরতাল ডেকেছে। সরকার কখনই নমনীয় নয়। সরকার সবসময় ধৈর্যের পরিচয় দেয়। ধৈর্যটা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, ইতিমধ্যে কতগুলো নিরীহ মাদ্রাসার ছাত্র, মাদ্রাসায় যারা অধ্যয়ন করে এর ৭০ ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের ঢাল হিসেবে নিয়ে ব্যবহার করা, আমি মনে করি এটা তারা খুবই অন্যায় কাজ করছে। ধর্মের নামে তাদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী, বি-বাড়িয়ার সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ, থানা ভবন, সরকারি ভূমি অফিস, পুলিশ ফাঁড়ি, রেলস্টেশন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বাড়িঘর, প্রেস ক্লাসবসহ মানবসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করা হচ্ছে। এ জাতীয় ক্ষয়ক্ষতিসহ সব ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফেইসবুকসহ কিছু অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কতদিন এটা থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘গতি কমানো হয়েছে কি না, আমি সেটা জানি না। তবে যান্ত্রিক কোনো অসুবিধা হতে পারে। এটা বিটিআরসি বলতে পারবে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের পর অভিযানের মুখে ঘরে ফেরা হেফাজতের হঠাৎ করে সহিংস হয়ে ওঠায় কারও ইন্ধন থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।’