সৌম্য ঝড়ের পরও সিরিজ হার

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হেরে গেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে সফরকারীদের সামনে কঠিন এক লক্ষ্যই সেট হয়। ১৬ ওভারে ১৭১ রান করতে হতো। সৌম্য সরকারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পরও যা টপকাতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

ফলে এক ম্যাচ হাতে থাকতেই খোয়া গেল সিরিজ। নিউজিল্যান্ড এগিয়ে গেল ২-০ তে।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড দলের ইনিংসে দুই দফা বৃষ্টি হানা দেয়। দ্বিতীয় দফায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান করতে পারে দলটি। বৃষ্টিতে সেখানেই শেষ হয় দলটির ইনিংস।

তাতে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ ওভারে ১৭১ রানের। যদিও এ নিয়ে নাটকই হয়েছে।

১৬ ওভারে ১৪৮ রান করতে হবে জেনে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচ অফিশিয়ালদের সে হিসেবে ছিল গড়মিল। পরে অফিশিয়ালরা যখন জানাল ১৬ ওভারে ১৭১ করতে হবে বাংলাদেশকে, ততক্ষণে ১.৩ ওভার খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ! ১৭১ না ১৭০ এনিয়েও তৈরি হয়েছিল দ্বিধা।

লক্ষ্য তাড়ায় লিটন দাস (৫ বলে ৬) দ্রুত ফিরে গেলেও তিনে নেমে সৌম্য সরকার ঝড় তুলেছিলেন। সেই ঝড়ে একটা পর্যায়ে স্বপ্নবিলাসিও হয়ে উঠেছিল টাইগারভক্তরা। কিন্তু সৌম্যর ব্যাটিংটা পরে অন্য কেউই করতে পারেনি। জিততে হলে প্রয়োজন ছিল সেটারই। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৪২ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

পাওয়ার প্লে-তে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ৫ ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেটে ৩৭। কিন্তু সৌম্যর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পরের দুই ওভারেই আসে ৩৯ রান! ২৫ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় ফিফটিটি পূরণ করেন সৌম্য। যদিও এর দুই বল পরই ফিরে যান। ২৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় করেন ৫১ রান।

১১তম ওভারের প্রথম বলে সৌম্য ফেরেন। বাংলাদেশের তখনও প্রয়োজন ৭৬ রান। শেষ ৫ ওভারে ৭০ রানের কঠিন সমীকরণটা আর মেলাতো পারেনি বাংলাদেশ।

একপ্রান্তে সৌম্য যখন ঝড় তুলেছিলেন, অন্য প্রান্তে তাকে যোগ্য সহায়তা দিচ্ছিলেন মোহাম্মদ নাঈম। কিন্তু সৌম্য ফেরার পর দায়িত্বটা নিজের ওপর নিতে পারেননি তিনি। ফিলিপসের করা ১৩তম ওভারের প্রথম বলে গাপটিলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান নাঈম। ৩৫ বলে ৪ চারে ৩৮ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

মাহমুদউল্লাহ ১২ বলে ২১ রান করলেও আফিফ হোসেন ২, মোহাম্মদ মিঠুন ১, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩ রান করেন। মেহেদি হাসান ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

কিউইদের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন টিম সাউদি, হামিশ বেনেট ও অ্যাডাম মিলনে।

এর আগে স্বাগতিকদের পক্ষে গ্লেন ফিলিপস ৩১ বলে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া ডারিল মিচেল ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

কিউইদের যে ৫ উইকেট পড়েছে তার দুটি নিয়েছেন মেহেদি হাসান। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

ম্যাচসেরা হয়েছেন গ্লেন ফিলিপস। সিরিজের ‍তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি বৃহস্পতিবার। অকল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।