ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মেয়র হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও তার স্ত্রী রুবানা হক। গতকাল মঙ্গলবার ফোরামের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
গতকাল ফোরামের পক্ষ থেকে রুবানা হক লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন। এ সময় বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম, সাবেক সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও ফোরাম সেক্রেটারি জেনারেল আসিফ ইব্রাহীমসহ প্যানেলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ-কে পুঁজি করে সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত সাবেক সভাপতিরা মন্ত্রী-এমপি-মেয়র হচ্ছেন এমন অভিযোগ করে আসছেন ফোরাম নেতারা। অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদের দাবি, মন্ত্রী-মেয়র হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘পথপ্রদর্শক’ বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনিসুল হক। কোনো প্রকার রাজনীতি না করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরেও ফোরাম কীভাবে পরিষদকে বিষোদগার করে এমন প্রশ্ন তাদের। তার জবাবেই রুবানা হক বলেন, ‘আমার স্বামী আনিসুল হককে নিয়ে যে প্রশ্নটি তোলা হয়েছে এটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। কারণ তিনি আজকে আমাদের মাঝে নেই। তার প্রসঙ্গ টেনে তার আত্মাকে কষ্ট দেওয়া, আমাকে বা আমার পরিবারকে ছোট করা এ রকম কেউ কোনো উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি বলেন, আনিসুল হক বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে মেয়র হননি। উনি বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, সার্ক চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তারপরে দীর্ঘদিন কিছু না করার পরেও তাকে টেনে আনা হয়েছে। কাজেই তিনি নিজের যোগ্যতায় নিজের সক্ষমতায় স্বার্থহীনভাবে কাজ করে গেছেন এবং দুই বছরের মধ্যে মারাও গেছেন কাজ করতে করতে।’ সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত রেদওয়ান আহমেদ প্রথম বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে রুবানা হককে মনোনীত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে যাদের স্থান দেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়টি সরকার স্পষ্ট করেছে। যারা যোগ্য এবং অভিজ্ঞতা আছে, কেবল তাদেরই স্থান দেওয়া হয়েছে। আমি তো মানবাধিকার কমিশনেও আছি।’ নিজে কখনো মন্ত্রী-এমপি হবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওভাবে তো বলা যায় না। তবে বিজিএমইএ-কে ব্যবহার করে কখনো কিছু করব না।’
ফোরামের লিখিত ইশতেহারে দেখা যায়, গত দুই বছরে তাদের অর্জন ৪৪টি, নতুন করে ৪৫টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৫৪টি। ফোরাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা নির্বাচিত হতে পারলে প্রতি তিন মাস পরপর তাদের পরিচালকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। বিজিএমইএ-কে শুধুমাত্র সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, এটিকে একটি সেবামূলক ‘সম্মিলিত ফোরাম’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউএফটি) ৭ জন সাবেক সভাপতি, ৭ জন বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ৭ জন বিজিএমইএ’র বিদ্যোৎসাহী সম্মানিত সভাপতির সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ডকে পুনর্গঠন করা হবে। বিজিএমইএতে ভার্চুয়াল কমপ্লেইন বক্স স্থাপন করা হবে। মিড ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা উন্নয়নের জন্য স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। লেবার আরবিট্রেশন/বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বিজিএমইএ’র সব কার্যক্রমকে ডাটা-ড্রিভেন করা হবে। রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য নিশ্চিতে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের সাবেক দক্ষ ব্যাংকারদের সমন্বয়ে একটি ব্যাংকিং সাপোর্ট সেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। মালিকদের জন্য বীমা ও কল্যাণ তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হবে। ক্যাশ ইনসেনটিভ ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করা হবে।
ফোরামের প্যানেল নেতা এ বি এম সামছুদ্দিন বলেন, ‘পোশাকশিল্পের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তৈরি পোশাকের দাম কমছে, রপ্তানিও কমছে। দুর্বল চুক্তিপত্রের সুবিধা নিচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা। পোশাক রপ্তানির পর আবার অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব সমস্যা সমাধান করতে হলে বিজিএমইএ’র আগামী পর্ষদকে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হলে পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ভার কমানো ও বাজার সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি জোর দেবে ফোরাম।’