দেশের গণমাধ্যম অনেক উন্নত দেশের চেয়েও স্বাধীন : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে, অনেক উন্নত দেশেও এ পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে না বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যে প্রতিনিয়ত ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। আমাদের দেশে অসত্য সংবাদ, ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয় না এটি কেউ বলতে পারবে না, প্রচুর হয়। কিন্তু এ অসত্য বা ভুল সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনো সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে এমন ঘটনা ঘটেনি।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘৫০ বছরে গণমাধ্যমের অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সারা দেশের সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য, এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়। ডিজিটাল বিশ্ব যখন ছিল না তখন ডিজিটাল আইনের প্রয়োজনও ছিল না। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে এত কথা হচ্ছে, ডিজিটাল আইনের মতো ভারতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট এবং সারা বিশ্বে এ বিষয়ে আইন রয়েছে। তবে আমিও এই আইনের অপপ্রয়োগের বিপক্ষে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫০ বছরের প্রান্তে আজ গণমাধ্যমের অনেক বিকাশ ঘটেছে। গত ১২ বছরের কথা আমি বলতে চাই। ১২ বছর আগে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ৪৫০। এখন দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১২৫০। ১২ বছর আগে টেলিভিশনের সংখ্যা ছিল ১০টি, প্রাইভেট টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণের পর। এখন সম্প্রচারে আছে ৩৪টি টিভি চ্যানেল, আরও আসার অপেক্ষায় আছে ১১টি। অনলাইন গণমাধ্যম ১২ বছর আগে হাতেগোনা কয়েকটি ছিল। এখন কয়শ কিংবা কয় হাজার সেটি দেখার বিষয়। তবে আমাদের কাছে ৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে নিবন্ধনের জন্য। আমরা ইতিমধ্যেই কিছু  নিবন্ধন দিয়েছি, আরও দেওয়া হবে, প্রক্রিয়া চলছে।’

ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক সংগঠনের নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, শওকত মাহমুদ, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ডিআরইউর স্বাধীনতার  সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রমুখ। সভাশেষে সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘সিটি ব্যাংক-ডিআরইউ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।