সম্প্রতি গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ‘রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
নেতারা বলেছেন, পুলিশের দায়ের করা দু’টি মিথ্যা মামলা ছাড়াও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরূদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা হাস্যকর, মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ ও অবিশ্বাস্য। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তারা।
‘বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা, ডা. শাহাদাতসহ ১৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে’ চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবদুল আজিজ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
এ সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল আনোয়ার চৌধুরী, ডা. শাহাদাতের আইনজীবি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ সারাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছিল, সে দিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও পুলিশ একটি সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়ে সারাদেশে সাধারণ মুসল্লীসহ ১৭ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করে। এ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে গত ২৯ মার্চ বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কাজীর দেউড়ীর নুর আহম্মদ সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী চলাকালে অতর্কিতে নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করে। আকস্মিক এ হামলায় নেতাকর্মীরা হতভম্ব হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ গুলি চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আহত নেতাকর্মীরা যখন জীবন বাঁচাতে ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখন পুলিশ সম্পূর্ণ অমানবিক ও অসম্মানজনকভাবে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে তার সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী ও পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সহসভাপতি মো. আলী, বিএনপি নেতা কিং মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এর আগে নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয় থেকে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, যুগ্ম সম্পাদক আঁখি সুলতানাসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় উল্টো বিএনপি নেতকর্মীদের বিরূদ্ধে কোতোয়ালী থানায় দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের হয়। মামলা দু’টিতে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
বিএনপি নেতারা বলেন, মিছিল-সমাবেশ ও সভা করা আমাদের সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক অধিকার। বর্তমানে জনগণের ওপর সরকারের কোনো আস্থা নেই। আর তাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিএনপির ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। প্রশাসন যন্ত্রকে তাদের অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকার খুঁটি হিসাবে ব্যবহার করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ডা. শাহাদাত হোসেন, মনোয়ারা বেগম মনিসহ গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।