মাস ব্যবধানে দ্বিগুণ মৃত্যু ব্রাজিলে

ব্রাজিলে করোনাভাইরাস কেবল মার্চ মাসেই ৬৬ হাজার ৫৭০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে হওয়া মৃত্যুর দ্বিগুণেরও বেশি। মহামারী করোনায় দেশটিতে এরই মধ্যে ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত পেরিয়ে গেছে ১ কোটি ২৭ লাখ। এদিকে বিশ্বে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে ১২ কোটি ৯৬ লাখ পেরিয়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে অন্তত ২৮ লাখ ৩১ হাজার।

বিবিসি জানাচ্ছে, ব্রাজিলে নতুন করে দৈনিক সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। তার সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করায় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল আনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন রাজ্যের মেয়র এবং গভর্নর লকডাউনের পক্ষে কথা বললেও বোলসোনারো এসব কানেই তুলছেন না। দেশের এমন বিপর্যয়েও তিনি লকডাউন এবং কঠোর বিধিনিষেধের বিপক্ষে। তার মধ্যে লকডাউন জারি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমে আসবে। তিনি বলেন, আমাদের দুটি শত্রু। এক. ভাইরাস এবং দুই. বেকারত্ব। এটাই বাস্তবতা। তাই আমরা ঘরে বসে থেকেই সমস্যার সমাধান করতে পারব না।

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৫৬ জন মারা গেছে। এ ছাড়া করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪৪ জনের। আর সুস্থ হয়েছে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ব্রাজিল। এরপর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এশিয়ার মধ্যে ভারতই হচ্ছে করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ। ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ জন। মারা গেছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬০ জন। আর সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৪৯৪ জন।

শনাক্তের তালিকায় রাশিয়াকে ছাড়িয়ে চারে উঠে এসেছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৪৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৯৫ হাজার ৬৪০ জন। সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৮ জন।

পঞ্চম স্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ৮৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭২ জন।

এরপর শনাক্তের দিক থেকে তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ইতালি, তুরস্ক স্পেন ও জার্মানি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। ওই বছরেরই ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।