মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটিতে ইন্টারনেটের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যেই সংগঠিত হওয়ার উপায় বের করার চেষ্টা করছে বিক্ষোভকারীরা। যোগাযোগের উপায় সীমিত হয়ে যাওয়ায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন নিজেদের মধ্যে রেডিও তরঙ্গ, অফলাইন ইন্টারনেটের কায়দাকানুন ও মোবাইল বার্তার মাধ্যমে নিউজ এলার্ট সরবরাহকারীদের নাম্বার বিনিময় করে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। সামনের দিনগুলোতে দেশবাসীকে ‘গেরিলা’ কায়দায় প্রতিবাদ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের এ আইন ভাঙার মামলাটিতে দোষীসাব্যস্ত হলে সু চির ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, গতকাল শুক্রবার থেকে কর্র্তৃপক্ষ নতুন বিধিনিষেধ দেওয়ায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন শুধু ফিক্সড-লাইনেই ইন্টারনেট সেবা চালু আছে, তারবিহীন ব্রডব্যান্ড যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট নিয়ে নতুন এ আদেশের বিষয়ে টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সামরিক জান্তা। অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন দমনে এর আগে তারা মোবাইল ডেটায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক আহ্বানে বিভিন্ন বাসস্টপে ‘ফুল হামলা’ চালানোরও ডাক দিয়েছে; নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত অনেক বিক্ষোভকারীরই শেষ যাত্রা এসব বাসস্টপ থেকে হয়েছিল। ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের নেতা খিন সাদার বলেন, গতকাল আমরা বাসস্টপগুলোতে ফুল রেখে আসব। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে এটুকুই আমি আপনাদের জানাতে চাই। সামনের দিনগুলোতে সড়কে আরও বিক্ষোভ হবে। যত বেশি সম্ভব গেরিলা আঘাত হানুন। আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। চলুন ফের রেডিও শুনি, একে অপরকে ফোন করি।
এক সময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ মিয়ানমার গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই টালমাটাল দিন কাটাচ্ছে। সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটিতে অন্তত ৫৪৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মসূচিতে হতাহত ও গ্রেপ্তারের খোঁজখবর রাখা গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স। বৃহস্পতিবার দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন শহরের রাস্তায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক জায়গায় আন্দোলনকারীরা সামরিক বাহিনীর করা ২০০৮ সালের সংবিধানের কপি পুড়িয়েছে।
এদিকে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে সু চির বিরুদ্ধে। ঔপনিবেশিক আমলের এ আইন ভাঙার মামলাটিই সামরিক শাসনবিরোধী গণতন্ত্রপন্থি এ নেত্রীর বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এ আইনের অধীনে দোষীসাব্যস্ত হলে সু চির ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বৃহস্পতিবার তার প্রধান আইনজীবী খিন মং জাও টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, এক সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে সু চি, তার পদচ্যুত মন্ত্রিসভার তিন সদস্য ও অস্ট্রেলিয়ান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেলের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে মামলা হয়েছে।
সামরিক জান্তা এর আগে সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধের মামলা করেছিল। তার মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ছয়টি ওয়াকিটকি আনা ও বেআইনি যোগাযোগের জন্য সেগুলো নিজের কাছে রাখা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে।