রোহিঙ্গা শিশুকে ফিরিয়ে দিতে চায় ভারত

বছর দুয়েক আগে অজ্ঞান অবস্থায় এক রোহিঙ্গা শিশুকে খুঁজে পেয়েছিল ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষ। নানা ঘটনার পর সম্প্রতি তাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় দিল্লি। এর জন্য গত বৃহস্পতিবার ১৪ বছরের মেয়েটিকে সীমান্ত এলাকায় নিয়েও গিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু গেট খোলেনি মিয়ানমার। তবে এভাবে শিশুটিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার বিরোধিতা করে ভারত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

গত বৃহস্পতিবার মেয়েটিকে মণিপুর সীমান্তে নিয়ে যান ভারতের আট পুলিশ কর্মকর্তা। সেখানেই তার প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র চূড়ান্ত হচ্ছিল। রোহিঙ্গা শিশুটিকে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে গেলেও সীমান্তের গেট খোলেনি মিয়ানমার। এ বিষয়ে মিয়ানমারের অভিবাসন বিভাগের বক্তব্য, এই মুহূর্তে শিশুটিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তাদের দেশে নেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় অভিবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি মিয়ানমারের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ নয় এবং এই মুহূর্তে শিশুটিকে পাঠানো নিরাপদ হবে না। তবে এর কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, আর আমাদের সবারই সেগুলো মেনে চলতে হবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা মেয়েটি পাচারের শিকার হয়ে আসাম পৌঁছেছিল বলে ধারণা করা হয়। তার বাবা-মা বাংলাদেশের কক্সবাজারের একটি শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন বলে জানানো হচ্ছে। আসাম পুলিশের তথ্যমতে, শিশুটিকে ২০১৯ সালে সিলচর শহরের কাছাকাছি একটি এলাকায় প্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে উজ্জ্বলা শেল্টার হোমে হস্তান্তর করে পুলিশ। সেখানে প্রায় এক বছর থাকার পর মেয়েটিকে নিবেদিতা নারী সংস্থায় পাঠানো হয়।