বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশসহ চারটি দেশ থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট এ-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যুক্তরাজ্য ভ্রমণের এ ‘রেড লিস্টে’ বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কেনিয়া রয়েছে। এ তালিকায় আগে থেকেই আরও ৩৫টি দেশ রয়েছে।

যুক্তরাজ্য বলেছে, ৯ এপ্রিল ভোর ৪টা থেকে নিষেধাজ্ঞার এ আদেশ কার্যকর হবে। তবে ব্রিটিশ, আইরিশ ও বাংলাদেশি ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যেতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে দেশটির সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে।

অবশ্য বাংলাদেশও যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের দেশগুলো থেকে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যা আজ শনিবার থেকে কার্যকর হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলেছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কথা বিবেচনা করেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাত্রীরা দেশে এসে ঠিকঠাক কোয়ারেন্টাইনে থাকলে ফ্লাইট বাতিলের প্রয়োজন হতো না। বেশিরভাগ যাত্রী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান না। অতীতেও এমন হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাজ্য কেন যেকোনো দেশই আতঙ্কিত না হয়ে পারবে না। হতে পারে এ কারণেও যুক্তরাজ্য এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। ঠিক যে কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে বেবিচক যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কথা বলব। তারা তাদের দেশের নাগরিকদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি দ্বিপক্ষীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়। দেশটিতে আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সেখানে বসবাস করেন। তারা দেশটি থেকে আসতে পারবেন, শুধু সেখানে ঢুকতে পারবেন না। আসলে আমাদের দেশে যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, সে তুলনায় মানুষ সতর্ক নন, আতঙ্কও খুব একটা নেই, স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না।’

যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেথ ব্রিটেনের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সেখানে তো আমাদের অনেক নাগরিক রয়েছেন। এসব প্রবাসীর কথা বিবেচনা করে আমরা নিষেধাজ্ঞা থেকে যুক্তরাজ্যকে বাদ রেখেছি।’

তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, যুক্তরাজ্যের এ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ৯ এপ্রিল থেকে বিমানের ফ্লাইট বাণিজ্যিক মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে। ৪ ও ৭ এপ্রিলের ফ্লাইট এখন পর্যন্ত পূর্ণ থাকলেও কতসংখ্যক যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করেন, তা দেখার বিষয়। অন্যান্য এয়ারলাইনসও একই অবস্থার সম্মুখীন হবে বলে জানান তিনি।