ভেতরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাইরে স্বাস্থ্যবিধি লন্ডভন্ড

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (এমবিবিএস) মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার পরীক্ষা শুরুর আগে এবং শেষে কেন্দ্রের বাইরে গাদাগাদি করেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। এমনকি প্রতি বেঞ্চে তিন-চারজনকে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা হাত ধোয়ার সাবান-পানি কিংবা স্যানিটাইজারও পাননি।

তবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুষ্ঠভাবে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা নিতে সমর্থ হয়েছে তারা।

গতকাল সকাল ১০টায় শুরু হয়ে এ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয় বেলা ১১টায়। ঢাকাসহ দেশের ৫৫টি কেন্দ্রে ১ লাখ ২২ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তারা এবার ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের ৪ হাজার ৩৫০ আসনের জন্য পরীক্ষা দিলেন।

তবে আয়োজকদের গাফিলতিতে রাজধানীতে পরীক্ষা শুরুর আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে জটলা দেখা দেয়। নির্দেশনায় পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে যেতে বলা হয়। সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে বেঁধে দেওয়া সময়ে কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় অভিভাবকরাও তাদের সঙ্গে অবস্থান করায় কোনো সামাজিক দূরত্ব ছিল না।

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘আমার বেঞ্চে তিনজন বসে পরীক্ষা দিয়েছি। কোনো কোনো বেঞ্চে চারজনকেও বসতে হয়েছে।’ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিয়াম নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পর্যায়ক্রমে খোলার কথা জানিয়েছেন। মেডিকেল কলেজ কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের কিছু? আমি তো কেন্দ্রের কোথাও সামাজিক দূরত্ব পাইনি। জীবনের চেয়ে পরীক্ষাই বড় করে দেখল কর্র্তৃপক্ষ?’

পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোর সামনে অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ে রাজধানীর কিছু এলাকার সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

পরীক্ষা শুরুর আগে অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং সামাজিক দূরত্ব রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ১ লাখ ২০ হাজার পরীক্ষার্থীকে এমন শৃঙ্খলার আওতায় আনা বেশ কঠিন।’

এদিকে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলেছে, সারা দেশের ৫৫টি ভেন্যুতে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে সহায়তা করায় জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।