নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ‘সিন্ডিকেটের’ সঙ্গে সরকারের যোগ রয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এ কারণেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার বাসভবন থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে চাল-ডাল-লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুব উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। সরকার জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবসময় ব্যর্থ হয়েছে। যারা দাম বাড়ায় সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরকার জড়িত। সরকারের লোকেরাই এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। যার ফলে এই অবস্থা।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের-গ্রেপ্তারের ঘটনা হচ্ছেএটা সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগের যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্তেরই একটা অংশ। অর্থাৎ এখন যারা রাজনৈতিক বিশ্লেষক আছেন তারাও মনে করছেন যে, এটা সরকারেরই সাজানো।’
তিনি বলেন, ‘মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিএনপিকে আবারও মামলা-মোকাদ্দমার জালে জড়ানো। কারণ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, সংগঠিত হচ্ছিলেন। আমরা অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম, আন্দোলন শুরু করেছিলাম, সেগুলোকে কী করে আবার একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া যায়, নিশ্চিহ্ন করা যায়, সেটারই একটা অংশ।’
নিপুণ রায় চৌধুরীর অডিও বানোয়াট : টেলিফোনে নিপুণ রায়ের গাড়ি পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার অডিও কথোপকথন বানোয়াট দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় হেফাজতের ডাকা হরতালের দিনে গত ২৮ মার্চ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল জনৈক আরমানের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি বানোয়াট অডিও প্রচার করে, যা সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। নিপুণ রায় চৌধুরী একজন কর্মরত আইনজীবী, সক্রিয় মানবাধিকারকর্মী; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না।’ এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকার ব্যর্থ : করোনার বিষয়ে সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেএ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে যে সচেতনতা সৃষ্টি করার প্রয়োজন ছিল জনগণের মধ্যে, তা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিজেদের সুরক্ষিত রেখেছেন, নিজেরা মাস্ক পরেছেন, ফেসশিল্ড পরেছেন, ঘর থেকে বের হননি। আর সাধারণ মানুষকে ঠেলে দিয়েছেন ঘর থেকে বেরুনোর জন্য।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই অবৈধ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াসহ সব বন্দি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় দুঃশাসন, দুর্নীতি ও গণতন্ত্র হত্যার দায় নিয়ে এই অবৈধ সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’ দেশের সব গণতান্ত্রিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।