চলচ্চিত্র উন্নয়নে কাজ করবেন নবনির্বাচিতরা

গতকাল শনিবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসেই নতুন নেতৃত্ব পেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। গত ২ এপ্রিল শুক্রবার দিনভর ভোটযুদ্ধ শেষে মধ্যরাতে জানা গেল বিজয়ীদের নাম। ২০২১-২২ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’খ্যাত নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয় লাভ করেছেন শাহীন সুমন। তাদের নেতৃত্বেই আগামী দুই বছর পরিচালিত হবেন চলচ্চিত্রের পরিচালকরা। সভাপতি পদে সোহানুর রহমান সোহান পেয়েছেন ১২৯ ভোট। এই পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবীণ নির্মাতা কাজী হায়াত পেয়েছেন ৮০ ভোট। মহাসচিব (সাধারণ সম্পাদক) পদে ১৬৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন শাহীন সুমন। এই পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এ হক অলিক পেয়েছেন ৬৪ ভোট।

নবনির্বাচিত সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘এর আগে আমি পরিচালক সমিতির সহাসচিব পদে ছিলাম। এবারই প্রথম সংগঠনটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। আমার সহকর্মীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে তাদের অভিভাবক নিযুক্ত করেছেন তার সম্পূর্ণ মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।’

কী কী কাজে বেশি গুরুত্ব দিতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ভগ্নদশা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিটাকে দাঁড় করানোর স্বপ্ন। কাজটি অনেক কঠিন। তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে, অনেক কাজ করতে হবে। আমি সব ধরনের পরিশ্রম করতে রাজি। এই কাজে সবচেয়ে দরকার অর্থলগ্নি। প্রযোজকের অভাবে ভালো ছবি নির্মাণের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। আমরা চাই সেদিকে গুরুত্বারোপ করতে। করপোরেট জগতের সঙ্গে সিনেমা জগতের একটা মেলবন্ধন ঘটানোর মাধ্যমে প্রযোজক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সেই চেষ্টা করব। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রত্যাশা, যে স্বপ্ন রয়েছে চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে তার বাস্তবায়ন করতে চাই। আপাতত কভিডের জন্য আমরা অনেক কিছুই করতে পারছি না। কিন্তু কোভিড-পরবর্তী সময়ে সরকার ও আমাদের চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।’

মহাসচিব পদে নির্বাচিত পরিচালক শাহীন সুমন বলেন, ‘এর আগে আমি উপ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সহকর্মীরা আমাকে অনেক ভোটে জয়যুক্ত করেছেন। তাদের জন্য কাজ করতে চাই। এ মুহূর্তে আমার দেখা সবচেয়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষ শাপলা মিডিয়ার সেলিম খান। তিনি আমার বন্ধু। তাকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝিয়ে শুনিয়ে ১০০ ছবি প্রযোজনার জন্য রাজি করিয়েছি। এরই মধ্যে আমার তত্ত্বাবধানে সেই ছবিগুলোর ২০টির কাজ চলছে। আমরা ১২০ জন পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এই ছবিগুলো একের পর এক হলে এলে চলচ্চিত্রের বাজার আবার রমরমা হবে। শিল্পী, পরিচালক, কলাকুশলী সবাই কাজ করতে পারবেন নিয়মিত।’

সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সচিব পদে হ্যাটট্রিক করলেন পরিচালক শাহীন কবির টুটুল। তিনি বলেন, ‘সহকর্মীরা আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে ভালোবেসে পরপর একই পদের জন্য তিনবার নির্বাচিত করেছেন। তাই আমার কাছে তাদের অনেক প্রত্যাশা। সেগুলো পূরণ করতে চাই। এক কথায় চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করব। মানসম্মত ছবি বেশি বেশি নির্মাণ করতে পারলেই আমাদের চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে। এজন্য প্রযোজক যেমন দরকার, তেমনি হলের পরিবেশও ভালো করা দরকার। কারণ এখন আমাদের প্রতিটি মানুষের রুচির উন্নয়ন হয়েছে। প্রত্যেকে চায় ভালো পরিবেশে ছবি দেখতে। আমরা এই দিকগুলোয় গুরুত্ব দেব। নতুন প্রযোজককে সিনেমায় লগ্নি করতে উৎসাহদানের পাশাপাশি পুরনো প্রযোজকদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করব। সিনেমার সব সংগঠন মিলে যদি আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো পেশ করা হয়, তবে আমরা সরকারের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাব বলে আশা করি।’

এবারের নির্বাচনে সহসভাপতি পদে ছটকু আহমেদ, উপমহাসচিব : কবিরুল ইসলাম রানা, অর্থসচিব : মো. সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সচিব : রকিবুল ইসলাম রকিব, আন্তর্জাতিক ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব : নোমান রবিন, প্রচার-প্রকাশনা ও দপ্তর সচিব : আনোয়ার সিরাজী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্যপদে নির্বাচিত হয়েছেন পল্লী মালেক, জাকির হোসেন রাজু, রহিম বাবু, নুর মোহাম্মদ মনি, মাসুমা তানি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সেলিম আজম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাইদুর রহমান সাইদ ও শাহাদত হোসেন লিটন।