জমি নিয়ে বিরোধ

মুক্তিযোদ্ধারসহ শতাধিক কবরে আগুন প্রতিপক্ষের

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চার মুক্তিযোদ্ধাসহ শতাধিক কবরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সিপাইপাড়ার ধাইজান গ্রামের কবরস্থানে এ আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মডেল থানায় অভিযোগ দেন স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ইমরান আলী।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের ধাইজান গ্রামে সিপাইপাড়া মৌজার এসএ ১২৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি স্থানীয়রা কয়েক যুগ ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। কিন্তু কবরস্থানের জমি নিজেদের দাবি করে আসছেন বাইনগাছ গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৮), একই গ্রামের আব্দুল গণি (৬০), আব্দুল জব্বার (৫২), জালাল উদ্দিন (৫০) ও আব্দুল জলিল। এ নিয়ে আগেও অন্য পক্ষের সঙ্গে তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। এরই জের ধরে গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় কবরস্থানে আগুন দেওয়া হয়।

গতকাল শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের অর্ধেকের বেশি অংশের গাছপালা পুড়ে গেছে। স্থানীয়রা ব্রিটিশ আমলের এ কবরস্থানে অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

ওবায়দুল হক নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ঘটনার দিন বাজারে যাওয়ার সময় জিয়াউরসহ কয়েকজনকে আমি কবরস্থানে আগুন দিতে দেখি। বাধা দিলে তারা আমার ওপর চড়াও হয়। এ সময় কবরস্থানে আগুন লাগিয়ে মসজিদে ২০ টাকা দান করবেন বলে ঔদ্ধত্য দেখান তারা।’

থানায় অভিযোগকারী ইমরান আলী বলেন, ‘আমি শবেবরাত উপলক্ষে ২৯ মার্চ বিকেলে কবরস্থানে গিয়ে দেখি, সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, জানার চেষ্টা করলে ওবায়দুল হক বিস্তারিত জানান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়, সাধারণ এলাকাবাসী হিসেবে থানায় অভিযোগ করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বিষয়টি জানাজানির পর মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক বলেন, ‘এ কবরস্থানে মুক্তিযোদ্ধা ইসলাম হক, এহসানুল হক, আব্দুর রউফ ও মোখলেছার রহমানের কবর রয়েছে। এমন একটি জায়গায় আগুন দেওয়া দুঃখজনক। আমরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

তবে আব্দুল গণি, জালাল উদ্দিন, আব্দুল জলিলসহ অভিযুক্তরা জানান, আব্দুল জব্বার মানসিক ভারসাম্যহীন। ভুল করে তিনি কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দেন। তার ছেলে জিয়াউর সেখানে ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা বিব্রত।

এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, ‘এভাবে কবরস্থানে আগুন দেওয়া অন্যায়। বিষয়টি জানার পর আমি দুজন ইউপি সদস্যকে সেখানে পাঠাই। তারা স্থানীয় দুটি পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করলেও সমাধান হয়নি। এখন শুনছি থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

তেঁতুলিয়া সদর মডেল থানার ওসি আবু ছায়েম মিয়া জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।