করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউনের’ প্রতিবাদ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন দোকান মালিক ও শ্রমিকরা।
গতকাল রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গুলিস্তান থেকে ধামরাইগামী সাহদাত পরিবহনের একটি বাসসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই দাবিতে গতকাল রাজধানীর মৌচাক মোড়ে বিভিন্ন মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এখানে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান রমনা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকান মালিকরা জানান, নিউ মার্কেট এলাকার সড়কে দুপুরে ‘লকডাউন চাই না, দোকান খোলা রাখতে চাই’ লেখা একটি ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূর ম্যানশন, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেটের আট শতাধিক দোকানের মালিক ও শ্রমিকরা। একপর্যায়ে তারা মিছিল করেন। নিউ মার্কেট থেকে মিছিলটি ঢাকা কলেজ ঘুরে আবার নিউ মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধরা সড়কে বসে লকডাউনবিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দেন। এতে দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সড়ক থেকে সরে যেতে বললে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষুব্ধরা একটি বাসসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই এলাকার সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাজি ফ্যাশনসের মালিক মো. শামসুদ্দীন জানান, গতবারের লকডাউনে তারা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন পার করেছেন। আবারও সরকার লকডাউন দিয়েছে। তারা ব্যবসায়ীরা কোনো লকডাউন চান না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালু রাখতে চান। সবুজ নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সড়কে তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা করেছে। লকডাউনে দিনে চার ঘণ্টা মার্কেট খোলা রাখতে চান। যুক্তি হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা চলার কথা বলেন তারা।
এ বিষয়ে ডিএমপির নিউ মার্কেট অঞ্চলের এডিসি ইহসানুল ফেরদৌস জানান, সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। ফলে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশের কর্মকর্তারা।