একদিনে শনাক্ত ৭ হাজার ছাড়াল

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্তে আবারও রেকর্ড হয়েছে। আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এদিন প্রথমবারের মতো রোগী শনাক্ত সাত হাজারের ওপরে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল রবিবার জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭ হাজার ৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত শুক্রবার। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৮৩০ রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে এক সপ্তাহের প্রতিদিনই রোগী শনাক্তে একের পর এক রেকর্ড হয়েছে।

গত ২৯ মার্চ প্রায় নয় মাসের রেকর্ড ভেঙে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। এর আগে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ রোগী শনাক্তই ছিল সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এরপর চলতি মাসের প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার দৈনিক শনাক্ত বেড়ে ছয় হাজার ছাড়ায়। গতকাল তা আরও বেড়ে গিয়ে সাত হাজার ছাড়াল। এক সপ্তাহে দেশে সর্বমোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৬৫০ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ৯৫০ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে গতকাল দেশে নমুনা পরীক্ষায়ও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরীক্ষার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। এদিন পরীক্ষার বিপরীতে ২৩ দশমিক ০৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে তিন দিন ধরেই রোগী শনাক্তের হার ২৩ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দেশে গড়ে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩ শতাংশের কম। সেই হার গত মার্চের প্রথম দিন থেকে বাড়তে বাড়তে তিন দিন ধরে ২৩ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।

সংক্রমণ বাড়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছে, ফলে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৩ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে পাঁচ দিন ধরে মৃত্যু ৫০ বা তার ওপরে রয়েছে। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ৪৫ জনই পঞ্চাশোর্ধ বয়সের এবং ৩৭ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৯৩তম দিন। অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২২৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট, ৭৩টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২০টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩১ হাজার ৪৯৩ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ৭২৪ জনের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯ হাজার ২৬৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭০৭ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৫২ হাজার ৪৮২ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৫ এবং সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪৫ ও নারী ৮ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৭০ পুরুষ ও ২ হাজার ২৯৬ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ২২ ও নারী ২৪ দশমিক ৭৮ ভাগ। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন ঢাকা বিভাগের। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে নয়, রংপুর ও ময়মনসিংহে তিনজন করে এবং রাজশাহীতে একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৪ জন মারা গেল ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬৭৩, খুলনায় ৫৯২, রাজশাহীতে ৫০৯, রংপুরে ৩৮০, সিলেটে ৩২৭, বরিশালে ২৭৬ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২০৫ জন রোগী মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৩৪, ৫১-৬০ বছরের ১১, ৪১-৫০ বছরের পাঁচ, ৩১-৪০ বছরের দুই ও ১১-২০ বছরের ছিল একজন। এদিন ৫২ জন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮১ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৭০৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৮৭০ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪০ হাজার ২৭২ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ৯ হাজার ৫৩২টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৪ হাজার ৪৯৬টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৭৯টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৮৪টিতে।