সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সহিংসতা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে

বিভিন্ন অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সহিংসতা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চিহ্নিত নাশকতাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই আমরা মিটিং করেছি। আমরা দেখেছি বিনা অজুহাতে সহিংসতায় নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছেন। যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যান্য জায়গায় মাদ্রাসা ছাত্রের চেয়ে বহিরাগতই বেশি ছিল।

মন্ত্রী বলেন, কারও প্রাণহানি ঘটুক সেটা আমরা চাই না। এটা ঠেকাতে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কঠোর অবস্থানে যাব। জেলা পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যা প্রয়োজন তারা সেই ব্যবস্থাটি করবেন।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানেই নাশকতা হবে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যারা নাশকতা করবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যারা চিহ্নিত হবেন, দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে করে তারা এই ঘটনা সংঘটিত করার প্রয়াস না পান। দীর্ঘক্ষণের মিটিংয়ে এটাই ছিল আমাদের সিদ্ধান্ত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আরেকটি জিনিস লক্ষ করেছি, সহিংসতার সময় বিনা উসকানিতেই বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিস, তহশিল অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সালথা উপজেলায় বিনা কারণে, বিনা উসকানিতে ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকেও আহ্বান করব তারা যেন এগুলোর প্রতিবাদ করেন। ভূমি অফিস নষ্ট হলে তারাই ভুক্তভোগী হবেন, সেই জায়গায় তারা যেন এটার প্রতিবাদ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হেফজখানাগুলোর বিষয়ে তারা বলেছিল, হাফেজরা চর্চায় না থাকলে ভুলে যাবেন। সে জন্যই তাদের অনুরোধে খুলে দেওয়া হয়েছিল। আগে তো ২ হাজার বা ৩ হাজার আক্রান্ত হতো। এখন যে ঘটনা ঘটেছে, এখন যে মহামারী ৭ হাজার ৮ হাজার আক্রান্ত হচ্ছে। তাই আমরা সবকিছু বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে কওমি মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কওমি মাদ্রাসাসহ যত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, মহামারীর কারণে সবগুলোকেই সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমি অনুরোধ করব সবাই যেন সরকারের এই নির্দেশনা মেনে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সহযোগিতা করেন। সব ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিবাহ, জন্মদিনের উৎসবও বন্ধ করা হয়েছে। এই কয়েকটি দিন সবাইকে বলব, কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা কোনো জায়গায় যেন লোকসমাগম না হয় তার দিকে লক্ষ রাখার জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ যেভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং এটার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে কোনো সিট নেই, এমনকি অক্সিজেন যারা সরবরাহ করছেন, তারাও অক্সিজেন সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা সবাইকে আহ্বান করব এই মহামারীতে সবাই যেন সহযোগিতা করেন এবং এগিয়ে আসেন, সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেয় সেটা পালন করুন।

মামুনুল হককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের হেফাজতে নিলে তাকে বাইরে দেখা যাচ্ছে কীভাবে? তিনি তো বাইরে দিব্যি ঘুরছেন, তার অত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ সবাইকে নিয়ে। তিনি অপরাধ করলে মামলা তো হবেই, মামলা মামলার গতিতে চলবে। সেখানে কারও হাত নেই। যেই অপরাধ করেন মামলা হবেই এবং অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী আদালত তার বিচার করবে।