ভার্চুয়াল সভায় ফখরুল

করোনাকালে শ্রমিকদের মাসিক অনুদান দিন

করোনকালে শ্রমিকদের মাসিক অনুদান দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এই কভিড-১৯ কালে অবশ্যই শ্রমিকদের সাবসিডি দিতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিক নেতা, শ্রমিক কর্মী ভাই যারা আছেন তাদের অবশ্যই সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা করতে হবে। এই মুহূর্তে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দাবি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যপ্রয়াত জাফরুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক দল আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এই শ্রমিক নেতা। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ।  

দেশে এখন জঙ্গি শাসন চলছে : গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘দেশে এখন জঙ্গি শাসন চলছে। ক্ষমতার দম্ভে আওয়ামী লীগ সরকার জুলুম-নির্যাতন চালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর।’ দলটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মানুষের মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে কর্র্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন অব্যাহত রেখে দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করেছে। বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও অপহরণ, বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই তীব্র মাত্রা ধারণ করেছে যে, দেশে যেন এখন জঙ্গি শাসন কায়েম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের অবৈধ ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম ও হত্যার যে সংস্কৃতি চালু করেছে সেটির আরেকজন শিকার হলেন পাবনা জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান শেখ। তাকে ৩১ মার্চ ২০২১ থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারংবার তার সন্ধানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হলেও তারা তা করেনি। গতকাল ৫ এপ্রিল স্থানীয় জনগণ তার লাশ উদ্ধার করে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে নিঃশব্দ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে শুধুমাত্র দুঃশাসন প্রলম্বিত করার জন্য। এক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করে সরকার। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঠিকানা করা হচ্ছে লৌহকপাটের ভেতরে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের জরিপ এবং গবেষণায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে জনঅধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে উদার গণতান্ত্রিক সূচক ও নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। ভয়াবহ দুঃশাসনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিলুপ্তপ্রায়। দেশে আজ স্বেচ্ছাচারী মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে।’