মুন্সীগঞ্জে মেয়রের বাসায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১৩

মুন্সীগঞ্জ সদরের মীরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুস সালামের বাসভবনে এক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জন। পৌর মেয়র সামান্য আহত হলেও তার স্ত্রী কানন বেগম গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মীরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় পৌর মেয়রের বাসভবনে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানাতে না পারলেও ওই ঘটনায় দগ্ধ একাধিক কাউন্সিলর দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, এটা ছিল পরিকল্পিত বিস্ফোরণ। তবে কে বা কারা তা করেছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি আহতরা।

আহত ৪ কাউন্সিলর হচ্ছেনমো. সোহেল, মো. আওলাদ, দীন ইসলাম ও রহিম বাদশা। মেয়রপত্নী কানন বেগম ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন মো. মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাস, পান্না, কালু, মো. ইদ্রিস আলী, মঈনউদ্দিন ও মো. তাজুল। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

মীরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহত কাউন্সিলর রহিম বাদশা সাংবাদিকদের জানান, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে মেয়রের বাসভবনের তৃতীয়তলার একটি কক্ষে মেয়রের সঙ্গে আলাপ করছিলেন তিনিসহ অন্য পৌর কাউন্সিলররা। হঠাৎ করেই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে কক্ষের ভেতর আগুনের শিখা দেখা যায়। বিস্ফোরণে কক্ষের আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ চুরমার হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চার কাউন্সিলরসহ অন্তত ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মেয়রের বাসভবনে বিস্ফোরণের কারণ জানতে চাইলে ঘটনার পরপরই সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কীভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কীভাবে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে তা তারাই বলতে পারবে।’

এদিকে মীরকাদিমের বিস্ফোরণের ঘটনায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি দগ্ধদের মধ্যে মেয়রের স্ত্রী কানন বেগমের (৩৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

মেয়রের বাসভবনে পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি মীরকাদিম পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আওলাদ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভার সাবেক মেয়র শরিফুল ইসলাম সাহিন। রাতের অন্ধকারে পৌরসভার কেয়ারটেকার মনির হোসেন একটি খাতা নিয়ে এই সাবেক মেয়রের কাছে যাচ্ছিল। এ সময় আমাদের বর্তমান কমিশনার দ্বীন ইসলাম সাহেব খাতা আটকায়। তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে কেন খাতা নিয়ে যাচ্ছ? পরে পৌরসভাতে খাতা রাখে সে। এরপর বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের খবর দেয় দ্বীন ইসলাম। আমি প্যানেল মেয়র-১ আব্দুর রহিম বাসারকে নিয়ে পৌরসভাতে আসি। সেখানে গিয়ে বলি, এই খাতা পৌরসভাতে রাখলে চুরি হতে পারে, আমরা মেয়র সাহেবের বাসায় নিয়ে যাব। পরে মেয়রের বাসায় এই খাতা নিয়ে যায়।’

বিস্ফোরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় গিয়ে মেয়রের সাথে কথা বলি। কাল (আজ বুধবার) আমাদের পৌরসভার স্টাফ নির্বাচন। মেয়র সাহেব বলেন, খাতাগুলো কালকে দেখব না। কাল নির্বাচন শেষে পরশু দিন খাতা দেখব। খাতার ভেতরে কী আছে তখন দেখব। এ সময় কেয়ারটেকারের সাথে রাতে খাতা নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমরা বলি, মেয়র সাহেব যা করার করবেন। এরপর মেয়র সাহেব আমাদের আপ্যায়ন করছিলেন, ফল খেতে দিয়েছিলেন। ওই মুহূর্তে বিকট শব্দ হয়। ঘরের ভেতরে আগুন চলে আসে। আমরা যে যেভাবে পারি পালাইছি। সেকেন্ডের মধ্যে সমস্ত ফ্লোর আগুনে ঝলসে যায়। সবার পাগুলো পুড়েছে এ কারণে। এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।’

বার্ন ইনস্টিটিউটে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইফুল আযম খান জানান, দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে মেয়রের স্ত্রী কানন বেগমের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর বাকি ১০ জনের শরীরের ২০ শতাংশের কম করে দগ্ধ হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।