বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোর্শেদ আলী গতকাল বুধবার সকালে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মোর্শেদ আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। সিপিবি নেতারা জানান, স্ট্রোকজনিত কারণে গত ২৬ মার্চ তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মোর্শেদ আলীকে পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বাড়িতে দাফন করা হবে।
এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ সিপিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মোর্শেদের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। যেখানে সর্বস্তরের মানুষ এই রাজনীতিবিদকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শহীদ মিনারে মোর্শেদ আলীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় ঢাকা জেলা প্রশাসন।
মোর্শেদ আলী ১৯৪৫ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। ডাকসুর জিএস ছিলেন ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে। তিনি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ কৃষক সমিতির বাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর দশকে স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
সিপিবি নেতা ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এক শোক বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই মোর্শেদ আলী শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখতেন এবং তা বাস্তবায়নের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি ছাত্র অবস্থায়ই কৃষকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের সংগ্রামে অংশ নিয়ে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং কৃষক মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের শ্রমজীবী মানুষ এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারাল এবং বামপন্থি আন্দোলনেরও অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন বাম জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক।