হেফাজতের হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

হেফাজত নেতা মামুনুল হককে সোনারগাঁ রিসোর্টে নারীসহ আটকের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কোদালা ইউনিয়নে হেফাজতের কর্মীদের সশস্ত্র মিছিল থেকে হামলায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ (৫৪) মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার এটিএম রেজাউল করিম জানান, নিউরো সার্জন প্রফেসর ডাক্তার কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সাড়ে চার ঘণ্টা অপারেশন হয় মহিবুল্লাহর। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনরগাঁয়ের একটি রিসোর্টে নারীসহ আটকের ঘটনায় ওইদিন রাতে কোদালা ইউনিয়ন হেফাজত, বিএনপি, জামায়াত নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা, কিরিচ, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল বের করে। মধ্য কোদালা গ্রাম এলাকায় মিছিল থেকে অতর্কিত হামলায় মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ছাড়াও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আবদুল জব্বার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলদার আযম লিটন আহত হন। তাদের চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহিবুল্লাহকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

মহিবুল্লাহর মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কোদালা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি মাস্টার বদিউল আলম জানান, মামুনুল ইস্যু নিয়ে এলাকার হেফাজত, বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এলাকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ইনচার্জ মাহবুব মিলকি বলেন, কোদালায় হামলার ঘটনার ব্যাপারে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল জব্বার বাদী হয়ে দুটি পৃথক মামলা করেছেন। মামলা দুটিতে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী ও হেফাজত সমর্থক ৬৪ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত ১৫০ জনসহ ২১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে এজাহারনামীয় দুজন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ফোরকান (৩৫), মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (২৮) ও শিলক ইউনিয়নের বাবর আলম (৩৮)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। তিনি আরও জানান, মহিবুল্লাহর মৃত্যুতে মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।