পাঠকহীন মেলায় নতুন বই দুই হাজার

মেলায় আসা নতুন বইয়ের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২ হাজার ২৮৬টি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে মেলায়। তবে প্রকাশকরা জানিয়েছেন, মেলায় আসা নতুন বইয়ের সংখ্যা চার হাজারের বেশি হবে। কারণ বেশিরভাগ নতুন বইয়ের তথ্য মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের তথ্যকেন্দ্রে জমা দেওয়া হয় না। মূলত তথ্যকেন্দ্রে জমা হওয়া বইয়ের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু মেলায় বই প্রকাশ হয়েছে আরও বেশি।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক অপরেশ ব্যানার্জি বলেন, ‘মেলায় নতুন বই প্রকাশ হলে তথ্যকেন্দ্রে এক কপি বই জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এখন প্রকাশকদের কেউ কেউ হয়তো জমা দেন না। আমরা তথ্যকেন্দ্রে জমাকৃত বইয়ের তথ্য মেলার মাইকে ঘোষণা করি এবং সাংবাদিকদের জানানোর ব্যবস্থা করছি।’ করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বই প্রকাশ কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। গতবারের মেলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি নতুন বই প্রকাশ হয়েছিল। এবার তিন হাজারের কম হবে বলে মনে করছেন মেলা সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এবার করোনার জন্য ভিন্ন পরিস্থিতিতে বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার জন্য বই প্রকাশ কম হচ্ছে। অনেক প্রকাশকই আর্থিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারেননি।’ এদিকে বই প্রকাশ হলেও বিক্রি নিয়ে কিছুটা হতাশায় রয়েছেন প্রকাশকরা। করোনা পরিস্থিতিতে এবার লোক সমাগম কম হচ্ছে। তবে শেষদিকে বিক্রি বাড়ার আশায় আছেন প্রকাশকরা।

কথা প্রকাশের জসিম আহমেদ জানিয়েছেন, গত দুদিনে বই বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। শেষ সপ্তাহে আরও বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি। অন্যদিকে লকডাউন পরিস্থিতিতে বইমেলায় লোক সমাগম কম হওয়ার শঙ্কায় স্টল বন্ধ ঘোষণা করেছে নাগরী প্রকাশনী। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুফি সুফিয়াব জানিয়েছেন, ‘লকডাউনে স্টলের বিক্রয়কর্মীরা আসতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্টল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বই বিক্রিও সন্তোষজনক হচ্ছে না।’

তবে লকডাউনেও বই বিক্রি হচ্ছে প্রথমা, তাম্রলিপিসহ কয়েকটি স্টলে। এছাড়া সৃজনশীল বইয়ের মেলা হলেও কয়েকটি স্টলে ইংরেজি শব্দ শেখার বইও বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে বইপ্রেমীদের মাঝে সমালোচনাও দেখা গেছে। মেলায় আসা কবির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৃজনশীল বইয়ের মেলায় সাত দিনে ইংরেজি শিখুন টাইপ বই বিক্রি হচ্ছে। মেলার আয়োজকদের তদারকি নেই কেন? এসব বই বিক্রি হয় নীলক্ষেতের ফুটপাতে। বইমেলায় এ বই বিক্রি হলে পরিবেশ নষ্ট হয়।’

গতকাল বইমেলার ২১তম দিন মেলা খোলা থাকে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৯টি। এর মধ্যে গল্প ৮, উপন্যাস ১১, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ২৮, গবেষণা ২, ছড়া ৪, জীবনী ৩, মুক্তিযুদ্ধ ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ২, বঙ্গবন্ধু ১ ও অন্যান্য ২টি বই। অন্বেষা প্রকাশন এনেছে শেহজাদ আমানের দুটো অনুবাদ বই ‘দ্য মার্শিয়ান’ ও ‘আর্টেমিস’। এছাড়া বেহুলা বাংলা এনেছে অপু মেহেদীর কবিতার বই ‘ট্রেঞ্চে ফিরে তাকদুম’, শুভাশিস সিনহার কবিতার বই ‘বর্ণালী তোমার সাথে’ বাতিঘরে বিক্রি হচ্ছে।