স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী নিয়ে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে পারিনি। আমরা উন্নয়শীল দেশ হয়েছি। দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণে নৌপরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের এ অর্জনকে সুসংহত ও টেকসই করতে হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিব বর্ষের শপথ, নিরাপদ রবে নৌপথ’। এটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গকি ও সময়োপযোগী। ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তার বক্তব্য দেন এবং নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের চেয়ে বর্তমানে নৌ দুর্ঘটনা অনেক কমে এসেছে। অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় নৌপথ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। দুর্ঘটনামুক্ত নদীপথ গড়ে তোলা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। আর আমাদের নৌ দুর্ঘটনা কমে আসার কারণ হচ্ছে নৌযানের ডিজাইন, নৌপথ নিরাপদ করার জন্য যা করণীয়, তা করা হচ্ছে। আপনাদের যথেষ্ট তৎপরতা আছে বলেই আমার মনে হয় এগুলো কমেছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর যখনই কোনো ছুটি আসে, তখন আমরা দেখতাম একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটত। সেগুলো একদম চলে গেছে বলব না, তবে কমে এসেছে। সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপের কারণে নৌ খাত দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যেভাবে আমরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছি, সেভাবে নৌ খাতও এগিয়ে চলছে। নৌ খাতের আরও উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
কালবৈশাখী ঝড়ের সময়ে নদীপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রীসাধারণকেও সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। সর্বশেষ নৌ দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে। নৌপথ দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে রয়েছে। নৌপথের সংরক্ষণ কেবল সৌন্দর্য নয়, দেশের অর্থনীতির বিকাশেও ভূমিকা রাখে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর এ জেড এম জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আগের চেয়ে নৌপথ এখন অনেক বেশি নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, বিশেষ করে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে যাত্রীবাহী নৌযানের দুর্ঘটনা অনেক কমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নৌ সেক্টর উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সব নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং পাশাপাশি নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবেও সোচ্চার ও কঠোর হতে হবে।