করোনা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ কান্ডজ্ঞানহীন : বিএনপি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় গত বছরের মতোই সরকারের পদক্ষেপ সমন্বয়হীন, অপরিকল্পিত, অদূরদর্শী ও কা-জ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করছে বিএনপি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স এ কথা বলেন।

প্রিন্স বলেন, ‘এবার সরকার অনেক সময় হাতে পেলেও পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় গতবারের মতোই হ-য-ব-র-ল অবস্থা। হাসপাতালগুলোতে অবস্থা বেগতিক। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল করোনা রোগীতে পূর্ণ। কোনো সিট খালি নেই। নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন। করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে পথিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। সরকার শুধু বাগাড়ম্বরেই ব্যস্ত। জনগণ গত বছর করোনা মোকাবিলায় সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কথা ভুলে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে সরকার বলছে লকডাউন/নিষেধাজ্ঞায় মিল-কলকারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলা থাকবে এবং গণপরিবহন, মার্কেট, শপিং মল বন্ধ থাকবে। আবার এর দু’দিন পর সরকার বলছে শুধু সিটি করপোরেশনের ভেতরে গণপরিবহন চলবে, কিন্তু দূরপাল্লার ও উপজেলা থেকে জেলা শহরে গণপরিবহন চলবে না। তাহলে প্রশ্ন, সরকারের ঘোষণানুযায়ী চালু থাকা মিল-কারখানায় শ্রমিক-কর্মচারীরা কীভাবে যাবেন? তাছাড়া সেখানে কি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থবিধি মেনে কাজ করা সম্ভব? শ্রমিক-কর্মচারীদের কি করোনা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা নেই ? অফিস-আদালতে ৫০ শতাংশ লোকবল দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা কি আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছে?’

প্রিন্স বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারি অব্যবস্থাপনায় লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা কোনোটাই মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না, বরং সরকারের পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপে মানুষ করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সর্বত্রই লেজেগোবরে অবস্থা। নানা দুর্ভোগে রয়েছে জনগণ। সরকারের যারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত দিচ্ছে, তাদের বেতন-ভাতা কিংবা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তে জনগণকে পড়তে হয় বিপাকে। আয়-রোজগার, সংসার চালানো কিংবা ভবিষ্যতের চিন্তায় জনগণ আজ দিশেহারা। প্রস্তুতিহীন লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা কোনোটাই যে কার্যকর হচ্ছে না, তার প্রমাণ সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট। শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের জন্য মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। মূলত সবকিছুই চলছে আগের মতোই।’

‘আলাপ-আলোচনার পরিবর্তে গুলি করে লাশ ফেলে জনবিক্ষোভকে সরকার দমন করতে চায়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের একজন পদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কর্মচারী কর্র্তৃক এক দোকান কর্মচারীকে অমানবিক নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুরের সালথায় গণবিক্ষোভ হলেও সেখানে গুলি করে মানুষ হত্যা ও চার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটি পরিষ্কার যে, সরকারের পায়ের নিচে শেষ মাটিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। সালথার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ঘটনার জন্য দোষী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

এ সময় জনগণকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিজের জীবন রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এমরান সালেহ প্রিন্স। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং সরকারি খরচে পর্যাপ্ত করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট, শ্রমিক দলের নেতা মনজরুল ইসলাম মনজু।