সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবিলা করতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারিকে মোকাবিলা করতে হবে। প্রতিরোধের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সেজন্য মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাত ধোয়াসহ অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে । বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সকলের জন্য সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়ি’।

 জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা পৃথিবীকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। আমরা করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করছি। হাসপাতাল বেড়েছে, আইসিইউ বেড়েছে। করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে। দেশে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এরপরও করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ক্যানসার, কিডনি, স্ট্রোকের রোগীসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, তাদের চিকিৎসা দিতে পারছি না। করোনায় সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা গিয়েছিল। কিন্তু মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানেনি, টিকা নিয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছে। দলবেঁধে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়েছে। বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মাস্ক ছাড়া, সামাজিক দূরত্ব না মেনে জড়ো হয়েছে। এসব কারণে এখন সংক্রমণের হার অনেক বেশি বেড়ে গেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানেনি, আর তাই সরকারকে লকডাউন দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন লকডাউন চলছে। মানুষকে এখন ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, অর্থনীতির জন্য সাধারণ মানুষকে সবকিছু ভেবে কাজ করতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যু পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় জনগণকে অবশ্যই আরও সচেতন হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য সাধারণ ১০০টি শয্যা, ২০টি কেবিন এবং ১০টি আইসিইউ শয্যা নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘এই করোনার সময়ে আমরা সবাই যোদ্ধা, সবাই কাজ করে যাচ্ছি। করোনায় যত লোকের প্রাণহানি হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মারা যায় ক্যানসার, যক্ষ্মাসহ আরও কিছু রোগেসেই হিসাব যেন ভুলে না যাই। করোনার এই সময়ে এর পাশাপাশি যেন আমরা এসব চিকিৎসাও চালিয়ে নিতে পারি।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক।