মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম বেড়েছে

দেশে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ও মৃত্যু। এ প্রেক্ষাপটে বেড়েছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চাহিদা। হঠাৎ করে সরকার ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর বেড়ে গেছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ও গ্লাভসের দাম।

ঢাকার বাবুবাজার থেকে পাইকারি দরে মাস্ক কিনে উত্তরায় ব্যবসা করেন শাহিন হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চার দিনের ব্যবধানে মাস্কের দাম দেড়গুণ বেড়েছে। আজকে ২ হাজার কাপড়ের মাস্ক কিনতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকায়। অথচ একই মাস্ক কয়েক দিন আগেও ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে নেওয়া যেত।’

একই কথা জানালেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী মেহেদী হাসান। তিনি জানান, গত বছর লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছিলাম। এবার লকডাউনে আমার স্যানিটাইজার বানাতে কেমিক্যাল ও মাস্কের জন্য বাবুবাজার এসেছি। কিন্তু আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল ও অ্যালোভেরা জেলের বাড়তি দাম চাইছে। এ ছাড়া দেড় হাজার নরমাল মাস্ক নিতে হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়।

বাবুবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারও মানুষকে মাস্ক পরতে বাধ্য করছে। বাজারে গত কয়েক দিনে মাস্কের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তারা আরও জানান, বাজারে তিন ধরনের কাপড়ের মাস্ক তৈরি হচ্ছে। ননওভেন ফেব্রিকসের তৈরি মাস্ক, ওভেন কাপড় (শার্টের কাপড় বলে পরিচিত) ও নিট কাপড়ের মাস্ক (গেঞ্জির কাপড় বলে পরিচিত)।

মাইশা কেমিক্যাল ও ড্রাগসের মালিক রবিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের আগে থেকে স্যানিটাইজারে ব্যবহৃত  কেমিক্যালের মজুদ ছিল না। এখন অনেকেই আসছে।  হঠাৎ এমন পরিস্থিতি হবে এটা বুঝতে পারিনি। চাহিদা অনুযায়ী কেমিক্যাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ন্যায্য দাম রাখার।’

এদিকে পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা দোকানে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, লকডাউন ঘোষণার পরই পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম বাড়তে শুরু করে। এতে তারাও মাস্কের দাম বাড়াতে বাধ্য হন। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন ওষুধের দোকান ও সুপারশপ ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

পুরানা পল্টন কাজী ফার্মেসির মালিক ইকবাল কাজী জানান, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মাস্কের চাহিদা বেড়েছে। আগে দুটি মাস্ক বিক্রি করতাম ৫ টাকায়। এখন একটি ৫ টাকা করে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম বেড়েছে।

শান্তিনগর নিউ লাইফ ফার্মেসির মালিক জুনায়েদ আহমেদ বলেন, আগে তিন লেয়ারের ইন্ডিয়ান ফেস মাস্কের বাক্স ১৫০ টাকায় কিনতাম, সেটা গতকাল ২২০ টাকায় কিনেছি। করোনা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। আমরা বেশি দামে কিনেছি বলে বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে স্যানিটাইজার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে হ্যান্ড গ্লাভসের বিক্রি বাড়েনি।

এদিকে বাজারে পাওয়া মাস্ক ও হ্যান্ড স্যনিটাইজারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতা ও ব্যবাসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের মাস্ক ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন জানান, বাজারে নিম্নমান ও নকল মাস্কও বিক্রি হচ্ছে। দাম কম থাকায় এর চাহিদাও বেশি। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো মানের মাস্কের চাহিদা কম, তার ওপর দাম বেড়েছে। আমাদেরও বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মাস্ক তৈরিতে একটা নীতিমালা থাকা উচিত।

ব্যাংক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, বেশিরভাগ দোকানে নকল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পাওয়া কেএন-৯৫ মাস্ক একবারের বেশি পরা যায় না। মহল্লার মধ্যে দোকানগুলোতে নিম্নমানের স্যানিটাইজার বিক্রি হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব বিষয়ে নজর দেওয়া। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত।  

উৎপাদকরা জানান, সার্জিক্যাল মাস্কের ননওভেন কাপড় মূলত চীন থেকে আমদানি করা হয়। এখন ছোট ছোট কারখানায় প্রচুর মাস্ক উৎপাদিত হচ্ছে। জেএমআই গ্রুপের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মার্কেটিং কর্মকর্তা অভিজিৎ পাল বলেন, বাজারে নিম্নমানের অনেক মাস্ক বেশি বিক্রি হচ্ছে। দাম কম থাকায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি। আমরা কিন্তু চীনের গাইডলাইন অনুসরণ করে তৈরি কেএন-৯৫ মাস্ক ও সার্জিক্যাল মাস্ক উৎপাদন করে থাকি। দাম তুলনামূলক একটু বেশি হওয়ায় চাহিদা কম।