ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শ্বশুর বাড়িতে সস্ত্রীক বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন জামাই ইবনে মিজান মুকুল (৪৭)। ঘটনাটি ঘটেছে পৌরশহরের ভাটাপুড়া গ্রামে ঘটেছে। তিনি পৌরশহরের কলেজপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মুকুল তার স্ত্রীসহ শ^শুর বাড়িতে বেড়াতে যান। রাত নয়টার দিকে টাকা-পয়সা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে মুকুলের সঙ্গে তার শ্বশুর ও শ্যালকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষে হাতাহাতি হলে মুকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তারা।
সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এ এম হেলাল কবীর মুকুল জানান, ওই ব্যক্তি অনেক আগেই মারা গেছেন। এমন খবর শুনে লাশ ফেলে রেখে সটকে পড়ে মুকুলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে মুকুলের পরিবারের লোকজন তার লাশ নিয়ে বাড়িতে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে লাশ দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেন মুকুলের স্ত্রী ও তার ছেলে। কিন্তু লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করতে দিতে নারাজ মুকুলের চাচা আব্দুল লতিফ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি শুনেছি আমার ভাতিজার সঙ্গে তার শ^শুর বাড়ির লোকজন সে রাতে চরম খারাপ ব্যবহারের সঙ্গে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তাই এর সঠিক বিচারের দাবি করে লাশের ময়নাতদন্ত চান তিনি।
পরে থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
রানীশংকৈল থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, মৃত ব্যক্তির চাচার দাবির প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে মৃত্যুর রহস্য।
মুকুলের চাচা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে চারজনকে বিবাদী করে একটি এজাহার থানায় দিয়েছেন। এটি মামলা হিসেবে রুজু করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার পর শ্বশুর আমিনুলসহ তার পরিবারের লোকেরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।