অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার সম্পর্ক থাকার তথ্য আসার পর যুক্তরাজ্যে ৩০ বছরের কম বয়সীদের এই টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের টিকাদান কর্র্তৃপক্ষ জয়েন্ট কমিটি অন ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জেসিভিআই) গত বুধবার ৩০ বছরের কম বয়সীদের অ্যাস্ট্রাজেনেকারটি বাদ রেখে অন্য টিকা নিতে বলেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ টিকা ব্যবহারে ৩০ বছরের কম বয়সীদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার মতো বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় কমিটি এ পরামর্শ দিয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ) জানায়, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার বিরল লক্ষণের একটি সম্পর্ক রয়েছে।
জেসিভিআইয়ের কভিড-১৯ চেয়ার ওয়েই শেন লিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৩০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে বিকল্প থাকলে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।’
তার মতে, কম বয়সীদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন না হলে, ঝুঁকি বিবেচনায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার চেয়ে অন্য টিকাগুলো বেশি কার্যকর।
শেন লিম এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা কোনো বয়সের কিংবা কাউকে টিকা দেওয়া বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছি না। আমরা একটি নির্দিষ্ট বয়সের জন্য এক টিকার পরিবর্তে অন্য এক টিকা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।’
তবে কেউ অক্সফোর্ডের প্রথম ডোজ টিকা নিলে তাকে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ-সুইডিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ চলছে। শুধু ইউরোপের দেশগুলোতেই আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে ইএমএ দেখেছে, মার্চ নাগাদ কোভিশিল্ড টিকা নেওয়া ৭৯ জনের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা গেছে। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আর এই ঘটনা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা গেছে। আর মৃতদের তিনজনের বয়স ৩০ বছরের নিচে।
সংস্থাটি বলছে, টিকাই এই রক্ত জমাট বাঁধার কারণ কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এই টিকার সঙ্গে যে তার একটি সম্পর্ক রয়েছে, সেই ভাবনাটি আরও দৃঢ় হলো।
তবে বিরল এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যেও মহামারীর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে টিকাটির গুরুত্ব এখনো কম নয় বলে বিশেষজ্ঞদের মত।