ফেইসবুক লাইভে মামুনুল

স্ত্রীকে খুশি করতে সীমিত পরিসরে ‘মিথ্যা’ বলা যায়

এবার স্ত্রীর কাছে মিথ্যা বলার পক্ষে সাফাই গাইলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘ইসলাম অনুযায়ী স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে বা খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনো সত্য গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার স্ত্রীর। আমার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে গায়ে পড়ে কেন কিছু মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে আজগুবি কথা বলছে। আমি আমার পরামর্শদাতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

গতকাল দুপুর ১টার পর মামুনুল হক ফেইসবুক লাইভে আসেন। ২৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি। ইসলামে একজন মুসলমানকে চারটি বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশীয় আইনেও চার বিবাহের প্রতি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নিরুৎসাহিত করা হয়নি। তাহলে আমি যদি চারটি বিবাহও করি, তাতে কার কী? আমি একাধিক বিবাহ করেছি, সেই বিবাহ করা শরিয়তসম্মত বৈধ অধিকার। সেটি আমার নাগরিক অধিকার। যদি আমার একাধিক বিবাহের ওপর কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকে, সেটি থাকবে পরিবারের ও স্ত্রীদের। যদি একাধিক বিয়ে করে আমার স্ত্রীদের অধিকার বঞ্চিত করে থাকি, তাহলে অবশ্যই তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে আমার কোনো স্ত্রী কারও কাছে কোনো অভিযোগ করেছে বা প্রশাসনের কারও কাছে কোনো অভিযোগ করেছে যে, আমি তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি।’

হেফাজত নেতা মামুনুল বলেন, ‘স্ত্রীদের অধিকার নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার কী ধরনের সম্পর্ক হবে এবং কোন স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের পরিধি কতটুকু পর্যন্ত জানাব এবং কতটুকু পর্যন্ত জানাব না, সেটি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এখতিয়ার। যারা এ ব্যক্তিগত এখতিয়ারকে লঙ্ঘন করে এ বিষয়ে আমার ওপর আক্রমণ করেছেন, আমি মনে করি তারা আমার নাগরিক অধিকার ক্ষুণœ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একাধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে স্ত্রীকে কীভাবে ম্যানেজ করব, কোন কথা দিয়ে প্রবোধ করব, তার সঙ্গে কোন পরিস্থিতিতে কোন কথা বলে তাকে আমি সান্ত্বনা দেব সেটিও ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলামি শরিয়তে মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট এবং খুশি করার জন্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। কাজেই সেই বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ থেকেও থাকে সেটি থাকবে একান্ত স্ত্রীর। আমি জানতে চাই, আমার স্ত্রী কি কোনো দিন কখনো কোথাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। তাহলে কেন কিছু মানুষ আমার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে আমাকে ঘায়েল করবার চেষ্টা করছে।’

স্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, ‘স্ত্রীদের সঙ্গে আমার ফোনালাপ ও কথোপকথন একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত বিষয়কে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতাকে জনসম্মুখে প্রকাশ করে ব্যক্তি অধিকার ক্ষুণœ করেছেন। যারা এটি করেছেন তারা বড় ধরনের অন্যায় এবং অপরাধ করেছেন। আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেব। যারা এ অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছেন তারা আমার ও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’

মামুনুল বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা ‘মানবতাবিরোধী’ একটি অপরাধ। এই মানবতা ও মানবাধিকার যারা লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার কর্মী যারা রয়েছেন আমি তাদের সদয়দৃষ্টি কামনা করি। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ও মানুষের স্বাধীনতা কতটুকু লঙ্ঘিত আজকে এই ঘটনা সেটার প্রমাণ। এই চরিত্র হননের যে অশুভ খেলা শুরু হয়েছে সেটা নিয়ে কোথাকার পানি কোথায় গড়াবেএটা আমি বলতে পারি না। এটা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলাকে মারাত্মক বিঘি্নত করবে। কাঁচের ঘরে থেকে অন্যকে ডিল ছুড়বার অপচেষ্টা করবেন না।’

রয়েল রিসোর্টে যাওয়া প্রসঙ্গে মামুনুল বলেন, ‘এভাবে অসাবধানতা ও নিরাত্তাহীনতা নিয়ে সস্ত্রীক যেখানে যাওয়া আমার জন্য সমীচীন ছিল না। আমি এতটা আশঙ্কা করিনি। সন্ত্রাসীরা এমন একটি নিরাপদ জায়গায় হামলা করতে পারেসেটা আমার ধারণা ছিল না।’

মামুনুলের দাবি, ‘এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেখানে তিনজন থাকলে সরকারদলীয় ক্যাডার ছিল ত্রিশজন। সেদিন আমি সৎ সাহসের সঙ্গে রুখে না দাঁড়ালে তারা আমাকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিত। তারা আমার শরীরের বস্ত্র কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছে।’

মামুনুল বলেন, ‘আমি কেন আমিনা তাইয়্যেবা বললাম এসব নিয়েও অনেক প্রচারণা। আমি স্পষ্ট বলতে চাই আমি তাদেরকে বলেছি আমি কেন বলব। মারমুখী আচরণের কারণে অনেক কথাই আমাকে বলতে হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা যখন জানতে চেয়েছেন তখন আমি তাদের সব বলেছি। আমার স্ত্রীর পর্দা লঙ্ঘন করায় আমি জনতার আদালতে বিচার দিলাম।’

গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এক নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন ‘স্থানীয়রা’। তখন সঙ্গে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন তিনি। মামুনুল স্ত্রীর নাম ‘আমেনা তাইয়্যেবা’ বললেও ওই নারী ‘জান্নাত আরা ঝর্ণা’ বলে নিজের নাম উল্লেখ করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে জানা যায়, মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর নাম আমেনা তাইয়্যেবা। মামুনুল তার লাইভে ঝর্ণাকে নিজের বিবাহিতা স্ত্রী পরিচয় দিলেও কবে, কীভাবে, কখন বিয়ে হয়েছে এবং সেই বিয়ের কাবিন হয়েছিল কি না এ বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।