বাবুর অভিনয়জীবনের সেরা প্রাপ্তি

শৈল্পিক ছবিতে বরাবরই জ্বলে ওঠেন ফজলুর রহমান বাবু। নিজেকে ভেঙে গড়ে নতুন মাত্রায় উপস্থাপন করেন দর্শকের সামনে। তাই তো তার অভিনীত প্রতিটি চরিত্র দর্শকের পাশাপাশি চিত্র সমালোচকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গুণী এই অভিনেতার অনেক ছবিই বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এবার তার মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি ‘নোনাজলের কাব্য’ জায়গা করে নিয়েছে ৪৭তম সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ‘নিউ ডিরেক্টরস কম্পিটিশন’ বিভাগে আমন্ত্রিত হয়েছে রেজওয়ান শাহরিয়ার পরিচালিত ছবিটি। যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসব গত ৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে, চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। এর ভেতর দিয়ে উত্তর আমেরিকায় প্রিমিয়ার হবে এই ছবির। এর আগে ১১টি উৎসবে দেখানো হয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’। এগুলোর ভেতর ছিল লন্ডন, বুসান, গুটেনবার্গ, তুরিনো, সিঙ্গাপুর, গোয়া, কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এর ভেতর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ‘নোনাজলের কাব্য’। সিনেমাটি এসব উৎসবে ঘুরলেও করোনা পরিস্থিতিতে পরিচালক বা ছবির অভিনয়শিল্পীদের যাওয়া হয়নি কোথাও। তাই বড়পর্দায় ছবিটি এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি পরিচালকেরও। বললেন, ‘বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পর ওরা অনলাইনে দর্শকদের সঙ্গে একটা প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করেছিল। সেখানে হঠাৎ করে আমার একজন বন্ধুর দেখা পেলাম। সে সিউল থেকে বুসানে এসেছে আমার ছবিটা দেখার জন্য। ও আমার নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বন্ধু। আমি দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকেছি। তাই সিয়াটল উৎসব আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে আমার সিনেমাজীবনের বর্ধিত পরিবারের অনেকেই আছেন।’ ছবিটি মুক্তির বিষয়ে বললেন, ‘এখনো আমরা ভাবছি ঈদুল ফিতরের পরপরই ছবিটি মুক্তি দেব। করোনা বাস্তবতায় কতদূর কী হয়, দেখা যাক। বুঝতেই পারছেন পরিস্থিতি ভালো নয়। সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। তাই সবকিছুই অনিশ্চিত।’

সমুদ্রপাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে এই ছবি। এতে ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করেছেন মহাজনের চরিত্রে। যাকে সবাই চেয়ারম্যান বলে ডাকে। সেই এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের দেশের অনেক ছবিই বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে যাচ্ছে। তবে মেইনস্ট্রিম কোনো উৎসবে গেলে সত্যিই সম্মানিত বোধ করি। এই ছবিটি আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। ছবি যে জীবনের কথা বলে, সংগ্রামের কথা বলে, অধিকারের কথা বলে, পাওয়া-না পাওয়ার কথা বলে, এই ছবি দেখলে তা বোঝা যাবে। অনেকগুলো বড় উৎসবে ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। করোনা না থাকলে হয়ত আমরাও যেতাম উৎসবগুলোতে।’

ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, তাসনুভা তামান্না, অশোক ব্যাপারী, তিতাস জিয়া, আমিনুর রহমান প্রমুখ। ছবির সংগীতায়োজন করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব।

‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকে খন্দকার মোশতাক চরিত্রে অভিনয় করছেন ফজলুর রহমান বাবু। এ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি জাতির জনকের বায়োপিকে কাজ করা সব শিল্পীর ভাগ্যে লেখা থাকে না। সেদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান যে ছবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করছি। একই সঙ্গে মুম্বাইয়ে শ্যাম বেনেগালের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করাটাও আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি। উপমহাদেশের যেকোনো চলচ্চিত্র কর্মীর চোখে তিনি এক সম্মানের নাম। বলিউডে যখন কথাকথিত বাণিজ্যিক ছবির জোয়ার, তখন তিনিসহ অল্প কয়েকজন পরিচালক জীবনমুখী চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। তার ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র নায়ক-নায়িকাসর্বস্ব নয়। তিনি নাসিরউদ্দিন শাহর মতো অনায়কোচিত চেহারার অভিনেতাকে দিয়ে প্রথম ছবি করেছেন। সেই অঙ্কুর দেখার পর থেকেই তার ভক্ত হয়ে গেছি আমি। সেই থেকে তার সঙ্গে কাজের বাসনা মনে জাগে, যা এই বঙ্গবন্ধু ছবির মাধ্যমে পূরণ হলো। এখনো কাজ শেষ হয়নি আমার। সেপ্টেম্বরে দেশেই শেষ অংশের শ্যুটিং হবে বলে শুনেছি।’

এদিকে করোনার প্রকোপে প্রতিদিন দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই বাবু আপাতত সব কাজ গুটিয়ে রেখেছেন। ঘরের মধ্যেই তার দিন কাটছে। বললেন, ‘সর্বশেষ ২৯ মার্চ নন্দিনী ছবির শ্যুটিং করেছি। এই ছবির কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনার জন্যই শেষ হচ্ছিল না। এবার আমরা কাজটি শেষ করতে পেরেছি। আমার সহশিল্পী নাজিরা আহমেদ মৌ, ভারতের ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তসহ অনেকে। এরপর ঈদের নাটক ও সিনেমার জন্য শিডিউল দেওয়া ছিল। সেগুলো করোনার জন্য বাদ দিতে হয়েছে। সবাইকে বলব, আপনারাও সাবধানে থাকুন। এখন সাবধানতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’