বরাবরই রাখঢাকহীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি। ব্যক্তিজীবন কিংবা কাজ, যেকোনো বিষয়েই তিনি মনের কথা প্রকাশ করেন বিনা সংকোচে। নতুন পণ্যের শুভেচ্ছাদূত হয়েও নিজের সেই দিকটি প্রকাশ করলেন। এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি
সাদা রাজহাঁস...
ছোটবেলায় মাথার বেণি খুলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপন মনে মডেলিং করতাম। স্বপ্ন দেখতাম আমাকেও একদিন টিভিতে দেখা যাবে। বিশেষ করে গন্ধরাজ নারকেল তেলের সাদা রাজহাঁসের বিজ্ঞাপনটি খুব ভালো লাগত। আমার ধারণা শুধু আমি নই, বাংলার অনেক নারীর মনেই বেঁচে আছে একটি চিরচেনা সাদা রাজহাঁস! এখন থেকে এই তেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আমিই কাজ করব। অংশ নেব বেশ কটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও। ভাবতেই অন্যরকম লাগছে।
‘মুখোশ’...
করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করাটা সত্যিই খুব আতঙ্কের। তারপরও চলচ্চিত্রের স্বার্থে আমাদের অনেক কিছুই করতে হয়। লকডাউনের আগে সরকারি অনুদানের ছবি ‘মুখোশ’-এ কাজ করেছি। এ ছবির গল্পের প্রয়োজনেই অনেকবার জনবহুল জায়গায় শ্যুটিং করতে হয়েছে। বেশ কিছু দৃশ্য বইমেলাসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। এরপর কাজ করেছি পদ্মার চরে। ইফতেখার শুভ পরিচালিত এই সিনেমায় আমার চরিত্রের নাম সোহানা। সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছি মোশাররফ করিম ও রোশানকে।
অসুখ...
কলকাতা গিয়েছিলাম স্বাস্থ্যগত কারণে। চেকআপ করে ধরা পড়েছে, মাথা নষ্ট আমার! কখনো মাথা ঘোরে। কখনো মনে হয় চারপাশটা ঘোরে। এ এক অসহ্য অসুখ। চিকিৎসক বলেছেন, অসুখটির নাম ভার্টিগো। যদিও মাথার এক্সরে প্লেট দেখে মনে হলো আমার মগজে কিছু রঙিন প্রজাপতি বাসা বেঁধেছে! একগাদা টেস্ট শেষে এক বস্তা ওষুধ নিয়ে ঢাকায় ফিরেছি। জানি না, এই প্রজাপতি অসুখ থেকে মুক্তি পাব কবে।
পুরস্কার...
এই করোনাকালেও চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবিটি টানা ১০০ দিন চলেছে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। সেই ছবির জন্যই ‘ফ্রেন্ডস ভিউ স্টার অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছি। যখন পুরস্কারের মঞ্চে কাজের স্বীকৃতি পাই তখন বোবা হয়ে যাই। আমি সবার দোয়া চাই।
‘স্ফুলিঙ্গ’...
তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ আমার কাছে একটি বিশেষ ছবি। একেবারেই অদেখা একটি চরিত্র করেছি। মেয়েটি কবিতা ভালোবাসে। ভালোবাসার জন্য সব করতে পারে। ছবিটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনাকে নিয়ে নির্মিত হলেও পাশাপাশি একটি নিটোল প্রেমের গল্প বলেছে। আমি সেই গল্পের নায়িকা। দর্শক আমার সাদামাটা লুক পছন্দ করেছে। তারা চায় আমি এই ধরনের সাবলীল অভিনয় যেন আরও উপহার দিই। আমার হাতে আরও আছে রায়হান জুয়েলের ছবি ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, রাশিদ পলাশের ‘প্রীতিলতা’ ও সঞ্জয় সমদ্দারের ‘বায়োপিক’। প্রতিটি ছবিতেই নিজেকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরব।