ভারোত্তোলনে ৩৩ রেকর্ড

রেকর্ডে রেকর্ডে ভরপুর বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের ভারোত্তোলন। ময়মনসিংহে পাঁচ দিনব্যাপী ভারোত্তোলনের ২০ ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড হয়েছে ৩৩টি। গতকাল শেষ দিনের চার ইভেন্টে হয়েছে ৯টি রেকর্ড। ভারোত্তোলন সংশ্লিষ্টরা এমন ফলাফলের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ আনসারকে। এই দুটি সংস্থা ১০টি করে সোনা ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তবে পদক তালিকায় আসর সেরা সেনাবাহিনী। তারা ১০টি সোনা ছাড়াও জিতেছে ৯টি রুপা ও ১টি ব্রোঞ্জ। আনসার ১০ সোনার পাশাপাশি জিতেছে ৭ রুপা ও ৩ ব্রোঞ্জ।

ভারোত্তোলনে ভূরি ভূরি রেকর্ড হলেও সর্বশেষ এসএ গেমসের সোনাজয়ীদের থেকে অনেক দূরে অবস্থান বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের। যেমন নেপালের পোখারায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ভারতীয় প্রতিযোগী থাকায় সোনা জয়ের সম্ভাবনা থাকবে না বলেই দেশসেরা মাবিয়া আক্তার সীমান্তকে খেলানো হয়নি ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে। সীমান্ত ৭৬ কেজি ওজনে খেলে জিতেছিলেন সোনা। এবার অবশ্য সীমান্ত বাংলাদেশ গেমসে খেলেছেন নিজের প্রিয় ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে। স্ন্যাচ, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও সর্বমোট উত্তোলন তিন বিভাগেই তিনি নিজের আগের রেকর্ড ভেঙেছেন। স্ন্যাচে ৮০ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০১ কেজি, সর্বমোট ১৮১ কেজি তুলে তিনটি রেকর্ডের মালিক হন সীমান্ত। অথচ ২০১৯ এসএ গেমসে এই ইভেন্টে ভারতের রাখি হালদার সোনা জিতেছিলেন সর্বমোট ২০০ কেজি তুলে (স্ন্যাচে ৯০ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১০ কেজি)। সর্বশেষ এসএ গেমসে সীমান্ত বাংলাদেশ গেমসের পারফরম্যান্সে বড়জোর পেতেন রুপা। তাতে ৩৩টি জাতীয় রেকর্ডে খুব আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। ভারোত্তোলনের জাতীয় দলের কোচ ফারুক সরকার কাজল অবশ্য খুশি এমন ফলাফলে, ‘দুটি সংস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে বলেই ছেলেমেয়েরা উন্নতি করছে। আমি মনে করি, এদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা যায় তবে এরা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।’ সীমান্তসহ তিনজন ভারোত্তোলক ১৯ এপ্রিল উজবেকিস্তান যাচ্ছেন এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে। এসএ গেমসে ছেলেদের ৯৬ কেজিতে সোনাজয়ী জিয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ গেমসেও সেরা হয়েছেন এসএ গেমসের সমান ২৬২ কেজি তুলে। তিনিও যাচ্ছেন সীমান্তের সঙ্গী হয়ে। এ ছাড়া মেয়েদের ৮১ কেজির ক্লিন অ্যান্ড জার্কে নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতা সেনাবাহিনীর ভারোত্তোলক মনিরা কাজীও যাবেন উজবেকিস্তান। এশিয়ান পর্যায়ের ওই আসরেই আসলে বোঝা যাবে বাংলাদেশি ভারোত্তোলকদের মান।

গতকাল মেয়েদের ৮৭ কেজির সব বিভাগেই রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন সেনাবাহিনীর তানিয়া খাতুন। মেয়েদের ঊর্ধ্ব-৮৭ কেজিতে সেনাবাহিনীর নাজনিন আক্তার মুন্নি ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট উত্তোলনে নতুন রেকর্ড গড়ে জিতেছেন সোনা। এই ইভেন্টে রুপাজয়ী সোয়াইবা রহমান রাফা স্ন্যাচে নতুন রেকর্ড গড়েন।

ছেলেদের ১০৯ কেজিতে সোনা জয়ের পথে সেনাবাহিনীর আব্দুল্লাহ আল মুমীন ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ও মোট উত্তোলনে নতুন রেকর্ড গড়েন। আর ছেলেদের ঊর্ধ্ব ১০৯ কেজিতে সোনাজয়ী সেনাবাহিনীর ফরহাদ আলী তিন বিভাগেই রেকর্ড গড়ে হারিয়ে দেন আনসারের তায়েফুর হোসেনকে।

বাংলাদেশ আনসারের কোচ ও সাবেক তারকা ভারোত্তোলক বিদ্যুৎ কুমার রায় শিষ্যদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আনসার ও সেনাবাহিনীর খেলোয়াড়রা সমান সুযোগ-সুবিধাই পান। এ আসরে বাংলাদেশ আনসারের খেলোয়াড়রা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছেন। তার কারণ টানা অনুশীলন। ভারোত্তোলনে ভালো করতে হলে টানা অনুশীলনের বিকল্প নেই।’