করোনা সংক্রমণের সংকট জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে মোকাবিলা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকারের অবস্থা লেজেগোবরে। তাদের সীমাহীন ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা এদেশের ১৬ কোটি মানুষকে একটি অনিশ্চিত গন্তব্যে নিয়ে চলছে।’ গতকাল শুক্রবার বিকোলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত আরএমজি সেক্টরে কয়েক হাজার গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে। ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ১০ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অর্থের অভাবে ঢাকা ছাড়ছে শত শত পরিবার।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন মানুষ বাঁচাই-দেশ বাঁচাই। আমরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজনদের সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং যারা মারা গিয়েছেন, তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা চাই, এ মহামারীতে আর যেন একটি প্রাণও না ঝরে পড়ে।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে করোনা মহামারী এক ভয়াবহরূপ পরিগ্রহ করেছে। সরকারের উদাসীনতা, অগ্রাধিকার নির্ধারণে ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অপকৌশল হিসেবে করোনা সংক্রমণের তথ্য গোপন ও সীমাহীন ব্যর্থতা আজ পুরো দেশকে এক বিপদসংকুল পথে নিয়ে চলেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের সমন্বয়হীনতা। হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে না মানুষ। টেস্ট করাতে গিয়েও নানা রকম ভোগান্তিতে পড়ছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে করোনার জন্য সরকার কোনো রকম প্রস্তুতি নেয়নি বলেই আজ হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও অক্সিজেনের সংকট।’ অযথাই বিএনপির সমালোচনা না করে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতে সর্বদলীয় সমন্বয় কমিটি করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির পাঁচ হাজার নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত : বর্তমানে সারা দেশে বিএনপির পাঁচ হাজার নেতাকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিতে খুবই বেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের অত্যন্ত সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ডা. জাহিদ হোসেন এবং রুহুল কবির রিজভী করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছেন।’
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে করোনায় বিএনপির চার শতাধিক নেতাকর্মী মারা গেছেন। আর পাঁচ হাজার নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত আছেন। এটা গত ২-৩ দিন আগের খবর। আমরা থানা-ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, খন্দকার আহাদ চৌধুরীসহ অনেকেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, আবারও বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হবে। গত বছরের মতো সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের পক্ষ থেকে যেসব সেবা দেওয়া হয়েছিল, সেটি এবারও চলমান থাকবে।