কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আরও একটি মৃত তিমি

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে একদিনের ব্যবধানে ভেসে এসেছে আরেকটি বিশালাকার মৃত তিমি। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে এটি হিমছড়ি বড় ঝর্ণার দক্ষিণের বালিয়াড়িতে আটকা পড়ে।

এর আগে গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে আরেকটি বিশালাকার মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। দুটি তিমিরই শরীরে পচন ধরেছে।

কক্সবাজার সমুদ্রসম্পদ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক মফিজুর রহমান মফিজ জানান, বয়স অথবা বঙ্গোপসাগরে জাহাজ চলাচলের সময় আঘাতজনিত কারণে তিমি দুটি মারা যেতে পারে। আজ (গতকাল) পাওয়া তিমির ওজন আনুমানিক আড়াই টনের মতো বলে জানান তিনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৈকতে ভেসে আসা তিমি দুটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর তাদের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, বয়সজনিত কারণে তিমি দুটির মৃত্যু হয়েছে এবং তা ১০ থেকে ১২ দিন আগে। দুর্গন্ধ এড়াতে তিমিগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। জাদুঘর ও গবেষণা কাজের জন্য দুই মাস পর তাদের কঙ্কাল সংগ্রহ করা হবে।’

কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে কয়েক প্রজাতির তিমি রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ দুটি কোন প্রজাতির তা নির্ণয় করা যায়নি।’

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানান, বিশালাকারের তিমিটি গলিতপ্রায়। ১৯৯১ সালে উখিয়ার ইনানি সৈকতে এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে হিমছড়ি সৈকতে এভাবে তিমি ভেসে এসেছিল। এর দীর্ঘদিন পর একদিন ব্যবধানে দুটি তিমি পাওয়া গেল। তিনি আরও জানান, ১৯৯৬ সালের ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়সজনিত কারণে তিমিটি আত্মহত্যা করেছে। এ দুটি তিমির ক্ষেত্রেও একই কারণ অথবা সাগরের বিষাক্ত পানি খেয়ে মৃত্যু হয়েছে।