ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডব

ছিনিয়ে নেওয়া গুলি উদ্ধার আটক ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজারের একটি মিষ্টির দোকান থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ব্যক্তিকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে হেফাজতের হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিযোগের শিকার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গতকাল শনিবার পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার সুহিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কেন্দুবাড়ির মৃত ছামীর আলীর ছেলে আরব আলী (৪০) ও সুহিলপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার মৃত রমিজ মিয়ার ছেলে মো. মনির মিয়াকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের দুই সদস্য সিএনজি অটোরিকশায় করে আসামি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে আসছিলেন। ওইদিন সদর উপজেলার নন্দনপুরে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। তখন দুষ্কৃতিকারীরা এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের নায়েক মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইছ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে মনির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী আরব আলীর কাছ থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করি।

 

ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত সচিব : হেফাজতের হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্তি সচিব দীপক চক্রবর্তী। গতকাল শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, পৌর ভূমি অফিস, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম সিদ্দিকী, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম এমএসসি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মেয়র নায়ার কবির, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ বড়ুয়া, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সনি আক্তার সুচি প্রমুখ।