নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪২

হেফাজতে ইসলামের ডাকে ২৮ মার্চ হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড ও কাঁচপুরে তাণ্ডবকারীদের প্রায় দুই শতাধিক ছবি ও ভিডিও এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। সেগুলো দেখে দেখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উগ্রতা ও গুজব ছড়ানো পোস্ট দেখে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত এমন দুইজনকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে।

এদিকে গত ৩ এপ্রিল দুপুরের পর হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারী নিয়ে সোনারগাঁও রয়েলে রিসোর্টের ৫০১ নম্বর রুমে ওঠাকে কেন্দ্র করে ওই দিন বিকেলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির নেতৃত্বে অবরুদ্ধের ঘটনায় হেফাজতের শত শত লোকজন রয়েল রিসোর্টে হামলা ও ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নেয়।

পরে তারা সোনারগাঁও আওয়ামী লীগ অফিস, নান্নু ও সোহাগ রনির বাড়িতে হামলা চালায়। হাবিবুর রহমান নামে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়।

এসব ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মোট ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। সবগুলো মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, শনিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড এলাকা থেকে আটক হেফাজত কর্মী মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে মুন্না (২২) খুলনার পাইকগাছার রফিকুল ইসলামের ছেলে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতালের সহিংসতায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ছবি প্রকাশিত হলে ওই ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া একই দিনে রূপগঞ্জ থেকে উপজেলা মসজিদ সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী মহল্লার মসজিদ থেকে মুফতি লোকমান হোসাইন আমিনীকে আটক করা হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

 এসপি আরও জানান, হরতালের তাণ্ডবের বহু ভিডি ও ছবি ইতিমধ্যে আমাদের হস্তগত হয়েছে। অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না।

এদিকে ২৮ মার্চ হরতালের নামে তাণ্ডব এবং ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে মামুনুল হককে কেন্দ্র করে তাণ্ডবের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবারের ২ জনসহ এ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে থেকে ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের ঘটনায় ১৫-১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।