পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বিজেপি। গত শনিবার রাজ্যে দুই সমাবেশে অংশ নেন বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিলিগুড়িতে বক্তব্য রাখেন ৪৪ মিনিট আর কৃষ্ণনগরে ৩৪ মিনিট। সব মিলিয়ে ৭৮ মিনিট। আর এর মধ্যেই মোট ১২৬ বার মোদির গলায় শোনা যায় ‘দিদি’ ডাক।
বিজেপির আরেক নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মমতা দিদি’ বলে সম্বোধন করেন। এরপরই মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। শনিবার দুই বক্তব্যে কতবার দিদি বলেছেন মোদি তা গুনে দেখেছে আনন্দবাজার। দেখা গেছে, শিলিগুড়িতে ৪৪ মিনিটে ৬৮ আর কৃষ্ণনগরে ৩৪ মিনিটে ৫৮ বার দিদি ডেকেছেন তিনি।
মোদির এমন ডাক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মমতা ব্যানার্জি। গত মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে মমতা বলেন, ‘উনি রোজ “দিদি”, “ও দিদি” বলে ব্যঙ্গ করছেন। আমার তাতে কোনো সমস্যা নেই। আমার গুরুত্ব রয়েছে বলেই এসব করছেন।’
মমতা নিজের কোনো সমস্যা নেই বলে উল্লেখ করলেও দলের নারীনেত্রীরা এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শশী পাজা, জুন মালিয়া এবং অনন্যা চক্রবর্তীর মতো নেত্রীরা মোদির এমন সম্বোধনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ভঙ্গিতে ডেকে আদতে বাংলার নারীদের অসম্মান করছেন প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের টিপ্পনী কাটতে এ ধরনের বাচনভঙ্গি ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদির মুখে খুব বেশি শোনা যাচ্ছে যে শব্দগুলো তার মধ্যে কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, তুষ্টিকরণ প্রভৃতি থাকলেও সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ‘দিদি’। শুধু ডাকাই নয়, নিত্যনতুন সুর ও ছন্দও আনছেন মোদি। শনিবার যেমন একই বাক্যে তিনবার ‘দিদি’ বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ‘দিদি, ও দিদি, আদরনীয় দিদি’ বলে নানা অভিযোগ তুলেছেন বা প্রশ্ন করেছেন।